ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

গণঅভ্যুত্থানে করা মামলায় কারাগারে

পাটগ্রাম সীমান্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক ডিজি আটক

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মে ১৮, ২০২৬, ০৫:৫৯ এএম

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলা সীমান্ত দিয়ে দেশে প্রবেশের সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) সাব্বির বিন শামসকে (৫৭) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত শনিবার দুপুরে উপজেলার সীমান্তবর্তী দহগ্রাম এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল রোববার দুপুরে সাব্বির বিন শামসকে লালমনিরহাটের আমলি আদালতে পাঠানো হয়। বিচারক মো. আলাউদ্দীন তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে সন্ধ্যায় তাকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।

পাটগ্রাম থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অনুপ্রবেশের অভিযোগে গতকাল দুপুরের দিকে পাটগ্রামের দহগ্রাম-আঙ্গরপোতার (বিলুপ্ত ছিটমহল) বঙ্গের বাজার সীমান্ত এলাকা থেকে সাব্বির বিন শামসকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে দুটি কূটনৈতিক পাসপোর্টসহ (লাল রঙের) মোট সাতটি পাসপোর্ট, একটি আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং লাইসেন্স, একটি বাটন ফোন এবং কিছু বাংলাদেশি টাকা পাওয়া যায়।

পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক জানান, ওই ঘটনায় পাটগ্রাম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গতকাল সন্ধ্যায় সাব্বির বিন শামসকে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) হেফাজতে পাঠানো হয়। তার আইনজীবী রফিকুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

লালমনিরহাট সদর থানার ওসি সাদ আহমেদ বলেন, ‘গতকাল রাতে সাব্বির বিন শামসকে সদর থানা পুলিশের হেফাজতে দেওয়া হয়। লালমনিরহাট সদর থানার বহুল আলোচিত আগুনে পুড়ে ছয়জন মৃত্যুর ঘটনায় হওয়া মামলায় তদন্তে প্রাপ্ত আসামি হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আজ (গতকাল) দুপুরে লালমনিরহাটের আদালতে সোপর্দ করেছি।’

উল্লেখ্য, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক সুমন খানের বহুতল বাসভবনে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও আগুনে পুড়ে ছয়জনের মৃত্যুর ঘটনায় ২০২৫ সালের ২৭ মে লালমনিরহাট সদর থানায় দায়ের করা হয়। ওই মামলায় সাব্বির বিন শামসকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তিনি লালমনিরহাট শহরের ঐতিহ্যবাহী বকসি বাড়ির সন্তান।

লালমনিরহাট সদর থানায় গতকাল দুপুরে সাব্বির বিন শামস সাংবাদিকদের বলেন, তিনি ২০২০ সালের আগস্ট মাসে আওয়ামী লীগের গবেষণা শাখা সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) নির্বাহী পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। ২০২১ সালে তৎকালীন সরকার তিন বছর মেয়াদে চুক্তিভিত্তিক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডিজি হিসেবে তাকে নিয়োগ দেয়। প্রায় সাত মাস ওই পদে তিনি দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি যুক্তরাজ্যের (ইউকে) বাংলাদেশ হাইকমিশনে মিনিস্টার পাবলিক ডিপ্লোম্যাসি পদে নিয়োগ পান। ২০২৩ সালে ওই পদ থেকে পদত্যাগ করে তিনি ঢাকায় ফিরে আসেন।