কাঁঠালের বহুমুখী ব্যবহার এবং এর পুষ্টিগুণ সম্পর্কে কম-বেশি অনেকেই জানি। কাঁঠাল দারুণ এক উপকারী ফল। গ্রামে কম-বেশি সব বাড়িতেই কাঁঠালগাছের দেখা মেলে। মজাদার এই পুষ্টিকর ফলটির বিচিও খাওয়া যায়। কাঁঠাল প্রসঙ্গ এলেই কেউ বলেন, রোয়া বা কোষ পছন্দ আবার কেউ বলেন বিচি খুব প্রিয়। প্রশ্ন হলোÑ কাঁঠালের বিচি কি সবার জন্য উপকারী?
কাঁঠাল খাওয়ার পর অনেকেই এর বিচি ফেলে দেন। অথচ এই বিচিই হতে পারে পুষ্টিকর একটি খাবার। গবেষণায় দেখা গেছে, কাঁঠালের বিচিতে রয়েছে প্রোটিন, খাদ্যআঁশ, ক্যালসিয়াম, আয়রন, পটাসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ভিটামিন-সি এবং বি-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। বিশ্ব কাঁঠাল দিবসে জেনে নিন কাঁঠালের বিচির কয়েকটি সম্ভাব্য স্বাস্থ্য উপকারিতাÑ
ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে ভূমিকা : কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, কাঁঠালের বিচির নির্যাসে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বা জীবাণুনাশক বৈশিষ্ট্য থাকতে পারে। ২০১৯ সালের একটি গবেষণায় দেখা যায়, এটি ই-কোলাই ও সালমোনেলা ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কার্যকারিতা দেখিয়েছে। তবে এই ফলাফল নিশ্চিত করতে আরও উচ্চ মানের গবেষণা প্রয়োজন।
ক্যানসার প্রতিরোধ : কাঁঠালের বিচিতে ফ্ল্যাভোনয়েড, স্যাপোনিন ও ফেনোলিক যৌগের মতো শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে। এসব উপাদান শরীরের প্রদাহ কমাতে, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে এবং কোষের ডিএনএর ক্ষতি মেরামতে ভূমিকা রাখতে পারে। এ ছাড়া এতে থাকা জ্যাকালিন নামের একটি যৌগ পরীক্ষাগারভিত্তিক গবেষণায় কোলন, রক্ত ও স্তন ক্যানসারের কোষের বিরুদ্ধে সম্ভাবনাময় কার্যকারিতা দেখিয়েছে। তবে মানুষের ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
কোলেস্টেরল কমাতে সহায়ক : কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, কাঁঠালের বিচি শরীরে চর্বি শোষণ কমাতে সাহায্য করতে পারে। এর ফলে এলডিএল বা খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমতে পারে। উচ্চ এলডিএল কোলেস্টেরল হৃদ্রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।
যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবেÑ কিছু ওষুধের ক্ষেত্রে : যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ বা রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ায় এমন ওষুধ সেবন করেন, তাদের কাঁঠালের বিচি খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। গবেষণায় দেখা গেছে, কাঁঠালের বিচি রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়াকে কিছুটা ধীর করতে পারে। তাই এটি নিচের ওষুধগুলোর সঙ্গে খেলে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়তে পারেÑ অ্যাসপিরিন, রক্ত পাতলা করার ওষুধ, অ্যান্টিপ্লেটলেট ওষুধ ও এসএসআরআই শ্রেণির কিছু অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট।
কাঁচা বিচি খাওয়ার ঝুঁকি : কাঁচা কাঁঠালের বিচিতে ট্যানিন ও ট্রিপসিন ইনহিবিটরের মতো অ্যান্টিনিউট্রিয়েন্ট থাকে। এগুলো শরীরের পুষ্টি শোষণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তবে সিদ্ধ বা রোস্ট করলে এসব উপাদানের কার্যকারিতা অনেকটাই নষ্ট হয়ে যায়। তাই কাঁঠালের বিচি সব সময় রান্না করে খাওয়াই নিরাপদ।
যেভাবে খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন : কাঁঠালের বিচি নানা উপায়ে খাওয়া যায়। আমাদের দেশে কাঁঠালের বিচির নানা পদ রয়েছে। চাইলে আপনি সালাদের সঙ্গে মিশিয়ে সিদ্ধ কাঁঠালের বিচি খেতে পারেন। এমনকি গুঁড়া করে আটা বা ময়দার সঙ্গে মিশিয়ে খেতে পারেন। এমনকি যদি গন্ধ খারাপ না লাগে, তাহলে স্মুদি করতে পারেন। চাইলে কাঁঠালের বিচি ভেজে খেতে পারেন। সবজিতে দিতে পারেন। মুরগির মাংসের সঙ্গে দিয়েও খেতে পারেন।
কাঁঠালের বিচি একটি পুষ্টিকর খাবার। তবে এটা কাঁচা খাওয়া যাবে না। সঠিক নিয়ম মেনে কাঁঠালের বিচি রান্না করে খেলে পুষ্টির সহজ উৎস হতে পারে। তবে যদি মনে করেন সমস্যা হচ্ছে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন