× UCB Sticker Card
রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুলাই ২৬, ২০২৬, ০৩:০০ এএম

মিরপুরে যুবদল কর্মী হত্যা

টার্গেটে সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী!

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুলাই ২৬, ২০২৬, ০৩:০০ এএম

টার্গেটে সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী!

রাজধানীর মিরপুর-১৩ নম্বর এলাকার যুবদল নেতা ও সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী হাফিজুল ইসলাম বাবুর বাসার সামনে সন্ত্রাসীদের গুলিতে ইউসুফ আলী ওরফে পারভেজ (৪৫) নামে এক যুবদল কর্মী নিহত হয়েছেন। গুলিতে সালাম সরদার (৪৫) ও মনির হোসেন (৩২) নামের আরও দুজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গতকাল শনিবার নিহত যুবদল কর্মীর ভাই বাদী হয়ে কাফরুল থানায় মামলা করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় যুবদল কর্মীদের বক্তব্য থেকে জানা গেছে, কাফরুল থানা যুবদলের সদস্য সচিব হাফিজুল ইসলাম বাবু এই এলাকা থেকে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ঘটনার সময় যুবদলসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা বাবুর বাসার নিচে অবস্থান করছিলেন।

অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে, কিলিং মিশনে ৪ জন অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে ঘটনার পর পরই পালিয়ে যাওয়ার সময় একজনকে অস্ত্রসহ আটক করা গেছে। বাকিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। হামলাকারীরা পেশাদার সন্ত্রাসী ও কিলার গ্রুপের সদস্য। এদিকে গ্রেপ্তার চঞ্চল মোল্লাকে অস্ত্র মামলায় ৩ দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হামলায় অংশ নেওয়া কয়েকজনের নামও পাওয়া গেছে। ঘটনায় একটি হত্যা মামলাও করা হয়েছে।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে কাফরুল থানাধীন মিরপুর-১৩ নম্বর ই-ব্লকের ওপেক্স গার্মেন্টসের সামনে অজ্ঞাত চার থেকে পাঁচজন দুর্বৃত্ত ইউসুফ আলীসহ কয়েকজনকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন গুলিবিদ্ধ হন। পরে স্বজনরা তাদের দ্রুত উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইউসুফ আলীকে মৃত ঘোষণা করেন। তার বুকের ডান পাশে গুলি লেগেছিল। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ সালাম সরদার ও মনির হোসেন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে সালাম সরদারের মাথার ডান পাশে এবং মনির হোসেনের বাম পায়ে গুলি লেগেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

প্রত্যক্ষদর্শী ও যুবদল কর্মী সুজন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘কাফরুল থানা যুবদলের সদস্য সচিব হাফিজুল ইসলাম বাবু এই এলাকা থেকে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আমরা প্রতিদিন তার বাসার কাছেই বসি। শুক্রবার বাবু ভাইয়ের বাসার নিচে আমরা কয়েকজন বসে কথা বলছিলাম। এমন সময় লক্ষ্য করলাম, অপরিচিত কয়েকজন আমাদের আশপাশে ঘোরাঘুরি করছে। তাদের দেখে সন্দেহ হওয়ায় কথা বলার জন্য আমরা কয়েকজন এগিয়ে যাই। আমাদের এগিয়ে যেতে দেখেই তারা এলোপাতাড়ি গুলি শুরু করে। এ সময় আমাদেরই একজন কর্মী ইউসুফ গুলিবিদ্ধ হন। এরপর তারা গুলি ছুড়তে ছুড়তে পালিয়ে যায়। এ সময় ফুটপাতের কাপড় ব্যবসায়ী মনির ও সবজি ব্যবসায়ী সালাম গুলিবিদ্ধ হন।’

প্রত্যক্ষদর্শী মামুন ও সজিব জানান, শুক্রবার রাতে মিরপুর-১৩ নম্বরের ই ব্লকের ওপেক্স গার্মেন্টের সামনে ৪-৫ জন দুর্বৃত্ত এলোপাতাড়ি গুলি করে। এতে ইউসুফের বুকের ডান পাশে, সালামের মাথায় ও মনিরের ডান পায়ে গুলি লাগে। স্থানীয় জনতা দুর্বৃত্তদের মধ্যে একজনকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করেছে। মামুন জানান, নিহত ইউসুফ কাফরুল থানা যুবদলের কর্মী এবং মনির ফুটপাতের কাপড় ব্যবসায়ী ও সালাম সবজি ব্যবসায়ী। মৃত ইউসুফের বাড়ি বরিশাল জেলার উজিরপুর থানার শাকরাল গ্রামে। তার বাবার নাম শাহজাহান আলী।

কাফরুল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, গোলাগুলির ঘটনায় তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর একজনকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় অস্ত্রসহ একজনকে আটক করা হয়েছে। স্থানীয়রাই তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।

পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মো. মোস্তাক সরকার বলেন, হামলায় মোট চারজন অংশ নিয়েছিল। হতাহতের ঘটনায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রসহ চঞ্চল নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। অন্য তিনজনকে আটক করতে অভিযান চলছে।

পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, হামলাটি পরিকল্পিত মনে হচ্ছে। এ হামলার নেপথ্যে রাজনৈতিক অথবা পেশিশক্তির বিরোধ কারণ হতে পারে। যে ৪ জন হামলায় অংশ নিয়েছে তারা পেশাদার সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্য। কোনো শীর্ষ সন্ত্রাসী অথবা অন্য কারো নির্দেশে হামলাটি করা হয়েছে। যেহেতু ঘটনাটি যুবদল নেতা বাবুর বাসার সামনে ঘটেছে এবং বাবু কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে মিটিংয়ের সময় ঘটেছে তাই মনে হচ্ছে, নির্বাচনকেন্দ্রিক কোনো বিরোধেও এ হামলা হতে পারে।

গ্রেপ্তার চঞ্চল মোল্লার ৩ দিনের রিমান্ড : এদিকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামি ও কিলিং মিশনের সদস্য চঞ্চল মোল্লাকে  ৩ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। গতকাল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাফরুল থানার এসআই ইউসুফ আলী ভূঁইয়া আসামি চঞ্চল মোল্লাকে অস্ত্র মামলায় আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি নিয়ে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ রিমান্ডের আদেশ দেন বলে প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই ওয়াজেদ আলী খান জানিয়েছেন।

মামলার বিবরণীতে বলা হয়েছে, কাফরুল থানা বিএনপির সদস্য সচিব মো. হাফিজুল ইসলাম বাবু ও ইউসুফসহ কয়েকজন কথা বলছিলেন। এ সময় আসামি চঞ্চল ও তার সহযোগীরা ‘পূর্ব পরিকল্পিতভাবে’ ইউসুফকে লক্ষ্য করে গুলি করেন। গুলি তার বুকের ডান পাশে লেগে পিঠ দিয়ে বের হয়ে যায়। তিনি মাটিতে পড়ে গেলে লোকজন আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করে। এ সময় আসামিদের এলোপাতাড়ি গুলিতে সবজি বিক্রেতা সালাম সরদার ও পথচারী মো. মনির হোসেন গুলিবিদ্ধ হন।

মামলায় বলা হয়েছে, লোকজন গুলিবিদ্ধ তিনজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নিয়ে যান। সেখানে ইউসুফ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পালানোর সময় কাফরুল থানাধীন মিরপুর-১৩ এলাকার একটি দোকানের সামনে থেকে চঞ্চল মোল্লাকে লোকজন আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে দেয়। পুলিশ তার দেহ তল্লাশি করে একটি বিদেশি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলি জব্দ করে। জিজ্ঞাসাবাদে আসামি চঞ্চল নিজের পরিচয় দেন ও জিহাদ মোল্লা, মো. জিয়ারুল ও হাসানসহ কয়েকজনের নাম বলেন, যারা হত্যাকা-ে অংশ নিয়েছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে কাফরুল থানায় অস্ত্র আইনে মামলা করে পুলিশ।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!