জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম জানিয়েছেন, জুলাই সনদ নিয়ে কোনো ধরনের অপরাজনীতি সহ্য করা হবে না। তিনি বলেন, ‘আমরা জুলাই সনদে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে। আমরা অক্ষরে অক্ষরে তা পালন করতে চাই। দেশের ৫৫ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়ে আমাদের নির্বাচিত করেছেন। ওই ৫৫ শতাংশের ৫১ শতাংশ আমাদের এবং বাকি ৪ শতাংশ আমাদের বিদ্রোহী প্রার্থীদের। আমরা বিদ্রোহী প্রার্থীদেরও আমাদের আওতায় ভাবি।’
চিফ হুইপ আরও বলেন, এখন যে সংস্কারের কথা তারা বলছেন, বিএনপি ২০২৩ সালেই ৩১ দফায় সেই সংস্কারের কথা উল্লেখ করেছে। সংবিধান একটি দলের পরাজয়ের দলিল, তাই তারা এটি ছিঁড়ে ফেলে নতুন করে লিখতে চায়।
গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চিফ হুইপ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও সংসদনেতা তারেক রহমান জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং এ লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। তবে নিয়মতান্ত্রিক ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এটি বাস্তবায়ন করা হবে, যাতে পরবর্তী সময়ে কোনো প্রশ্ন না ওঠে।’
বিরোধী দলের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘তারা একের পর এক অবস্থান বদলাচ্ছে। কখনো স্থানীয় সরকার নির্বাচন, কখনো সংস্কার, আবার কখনো সংবিধান পরিবর্তনের দাবি তুলছে। নির্বাচনের আগে তারা পিআর (অনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতি চেয়েছিল। অথচ আমেরিকা, ইংল্যান্ড বা আমাদের পাশের গণতান্ত্রিক দেশগুলোতেও এই ব্যবস্থা নেই। তারা বলেছিল, পিআর না দিলে নাকি নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। কিন্তু আমরা তখন স্পষ্ট বলেছি, কোনো বিশেষ অযৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নের অজুহাতে দেশের নির্বাচন আটকে রাখা যাবে না।’
শেখ মুজিবুর রহমানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, স্বাধীনতাকে অরক্ষিত রেখে তিনি আত্মসমর্পণ করেছিলেন। তারই দল আওয়ামী লীগ দেশ থেকে ২৭ লাখ কোটি টাকা পাচার করেছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্পর্কে চিফ হুইপ বলেন, তারেক রহমান টাকা চুরি করতে আসেননি। তিনি একজন সাশ্রয়ী মানুষ, যিনি নিজের অফিসে সেন্ট্রাল এসি চালান না এবং রাত ৩টায় ফোন করলেও তাকে পাওয়া যায়। তিনি কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ডের প্রচলন করেছেন এবং প্রস্তাব রেখেছেন যে, দুবারের বেশি কেউ প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। এ সময় তারেক রহমানের রাজনৈতিক শিষ্টাচারের প্রশংসা করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে জয়লাভের পর নিজে বিরোধীদলীয় নেতার বাসায় গিয়ে দেখা করার অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। তিনি জুলাই সনদের প্রতিটি বিষয় অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবেন।
বক্তব্যে তিনি শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, দেশের উন্নয়নে তাদের অবদান এবং বিপদে কান্ডারি হিসেবে আবির্ভূত হওয়া সম্পর্কিত বিভিন্ন উদাহরণ তুলে ধরেন। চিফ হুইপ উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। তিনি দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করেন এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেন। চিফ হুইপ আরও বলেন, বেগম জিয়ার আমলে দেশের মানুষ কেন ভালো থাকল এবং কেন দেশের উন্নতি হলোÑ শুধু এ কারণেই আমরা ১৭ বছর ভয়াবহ অত্যাচার ও নিপীড়ন সহ্য করেছি। বহু মানুষ গণতন্ত্রের জন্য জীবন দিয়েছেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম এবং একুশে পদকপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুকুমার বড়ুয়া। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের সভাপতি হুমায়ুন কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

