ভোলার লালমোহন উপজেলার বদরপুর ইউনিয়ন যেন আরেক জঙ্গল সলিমপুর। গত বুধবার রাতে মামলার আসামি গ্রেপ্তার করতে গিয়ে স্থানীয় কিশোর গ্যাংয়ের হামলার শিকার হয়েছে থানাা পুলিশ। এ সময় মামলার বাদীর দুই আত্মীয়কে মারধর করে গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামিকে ছিনিয়ে নেয় স্থানীয় সন্ত্রাসী গ্রুপ। পরে স্থানীয় বিএনপির এক নেতা ওই দুই আসামিকে থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। ঘটনাটি পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত সোমবার বিকেলে কলেজছাত্র সালমান (২০) লাঠিয়াল বাজারে তার চাচা আনোয়ার মীরের বাসার সামনে খেলা দেখতে যান। এ সময় প্রতিবেশী জাকির জমাদারের ছেলে ইমন জমাদার এবং স্থানীয় জয়নাল জমাদারের নেতৃত্বে জাহিদ খলিফা, সাকিব জমাদার, রাজিব জমাদার, জহির জমাদার, বাবুল জমাদারসহ একটি কিশোর গ্যাংয়ের বখাটে যুবকেরা কোনো কারণ ছাড়াই ক্রিকেট স্টাম্প দিয়ে পিটিয়ে সালমানের দুই হাত ভেঙে দেয়। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে সালমানকে আহত অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে সেখান থেকে তাকে বরিশালে রেফার করা হয়।
এ ঘটনায় সালমানের বাবা বাদল হোসেন মীর বাদী হয়ে আটজনকে আসামি করে লালমোহন থানায় মামলা করেন। এ মামলার পর গত বুধবার রাতে থানা পুলিশের এসআই জিল্লুর রহমানের নেতৃত্বে একটি টিম আসামি ধরতে যায়। পুলিশ ইমন ও অন্য এক আসামিকে আটক করলে সন্ত্রাসীরা পুলিশের কাজে বাধা সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে মব তৈরি করে গ্রেপ্তার দুই আসামিকে কেড়ে নিয়ে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে। একই সময়ে আসামি গ্রেপ্তারে সহযোগিতা করায় মামলার বাদীর বাড়িতে বেড়াতে আসা তার ভগ্নিপতি ও ভাগ্নেকে তুলে নিয়ে বেধড়ক মারধর করে। পরে পুলিশের কঠোর অবস্থানের কারণে স্থানীয় বিএনপি নেতা ফয়সাল তালুকদার ছিনিয়ে নেওয়া দুই আসামিকে রাতেই থানায় দিয়ে যান। পুলিশ গতকাল ওই দুই আসামিকে আদালতে তুললে বিচারক তাদের জেলহাজতে পাঠান।
লালমোহন থানার ওসি মো. অলিউল ইসলাম জানান, কলেজছাত্রকে মারধরের ঘটনায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে কিছুটা ঝামেলা হয়। পরে পুলিশের কঠোর অবস্থানের কারণে পিছু হটতে বাধ্য হয় হামলাকারীরা। মামলার দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের ওপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এইচ এম শাহাদাৎ হোসেন জানান, লালমোহনের বদরপুর ইউনিয়নে কলেজ শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হাত ভেঙে দেওয়ার বিষয়টি অবগত হওয়ার পর তিনি স্থানীয় থানার ওসির সঙ্গে কথা বলেছেন। আসামি গ্রেপ্তারের সময় পুলিশের ওপর হামলার বিষয়টি অবগত হওয়ার পর বিষয়টি পুলিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবগত করা হয়েছে। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাবে। পুলিশের ওপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় বিএনপি নেতা ফয়সাল তালুকদার বলেন, তিনি ঘটনা জানার পর রাতেই দুই আসামিকে থানার পুলিশের কাছে দিয়ে আসেন। মামলার বাদীর দুই আত্মীয়কে মব সৃষ্টি করে মারধরের ঘটনা তিনি সকালে জানতে পারেন। বিষয়টি তারা সমাধানের চেষ্টা করছেন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন