ঢাকার বনানী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ১৪ নেতাকর্মীর মধ্যে ১৩ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। তবে এক আসামি কিশোর হওয়ায় আদালত তাকে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দেন।
গত ১৬ মে ছাত্রলীগের মিছিলের প্রস্তুতি নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার এসব নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানা এ আদেশ দেন। রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেনÑ মোতাহের হোসেন শুভ, মারুফুল ইসলাম, তানভীর আহম্মেদ সানী, ওয়ালিউল্লাহ ফারুক আদর, সামির চৌধুরী ওরফে লিয়ন, ইমন আলী খান, ইয়াছিন আরাফাত আবির, সিফাত রহমান, ইয়াসিন আরাফাত নিহাদ, নাজমুল সরকার, আবির হোসেন, তৌকির তারেক আয়াজ ও হাবিবুর রহমান।
বনানী থানার ওসি মো. ফরিদুল ইসলাম ও প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মোক্তার হোসেন রূপালী বাংলাদেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। ওসি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে মিছিলের প্রস্তুতি নেওয়ার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বনানী থানার এসআই সাইফুল ইসলাম আসামিদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। এক আসামিকে শিশু দাবি করে শুনানি করেন তার আইনজীবী সাইফুর রহমান সুমন। অপর আসামিদের পক্ষে এহসান কবীর রিমান্ড বাতিল করে জামিনের প্রার্থনা করেন।
শুনানিতে এই আইনজীবী বলেন, তারা একটি মাইক্রোবাসে করে মিরপুর থেকে ৩০০ ফুট সড়ক এলাকায় যায় খেলা দেখতে। ফেরার পথে নেভি হেডকোয়ার্টারের সামনে এসে গাড়িতে সমস্যা দেখা দেয়। এ কারণে তারা সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তারা রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন। কোনো পদ-পদবি নেই তাদের।
রাষ্ট্রপক্ষে মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, নেভি হেডকোয়ার্টার নিরিবিলি এলাকা। তারা সেই জায়গা বেছে নিয়েছে। ড. ইউনূস ক্ষমতায় থাকাকালে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা ওই জায়গায় মিছিল-মিটিং শুরু করেন। এই আসামিরা মাইক্রোবাস থেকে জয় বাংলা স্লোগান দেন। তারা কোনো না কোনো এজেন্টের হয়ে এ কাজ করেছেন। তারা সবাই ছাত্রলীগ কর্মী। রিমান্ডে নিলে সব তথ্য বের হয়ে আসবে।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, ঘটনার দিন ভোর ৪টা ১০ মিনিটের দিকে আসামিরা বনানী থানাধীন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ময়মনসিংহমুখী লেনে নৌবাহিনীর সদর দপ্তরের বিপরীত পাশে বেআইনিভাবে জড়ো হন। এ সময় একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় করা মামলায় পরে বাকি ১৩ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলায় বলা হয়েছে, অভিযানকালে আসামিদের কাছ থেকে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসসংক্রান্ত লেখা এবং নেতাকর্মীদের ছবি সংবলিত ২৪টি পিভিসি পোস্টার, একটি টিভিএস আরটিআর মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

