দেশে প্রতিদিনই বাড়ছে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে মাত্র ৪ মাসের ব্যবধানে এ রোগে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮০৩। এমন অবস্থা চলতে থাকলে বছর শেষে এই সংখ্যা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা নিয়ে আশংকা প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা।
গতকাল বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ৩৭ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। একই সময়ে পরীক্ষায় ১৩৩ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৮৪১ জনে। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৯০৪ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার ৩৫২।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৩ হাজার ৭৮ জন। তাদের মধ্যে ৯৯ হাজারের বেশি রোগী চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।
তবে সরকার হাম নিয়ন্ত্রণে অনেকটাই সফল উল্লেখ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ^াস রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, আমরা দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি পালন করেছি। এখন ‘মাইক্রোপ্ল্যান’ করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে যেসব শিশু এখনো টিকা পায়নি, তাদের আওতায় আনতে কাজ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, হাম নিয়ন্ত্রণে শুধু প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতির ওপর নির্ভর করায় মৃত্যুহার কমছে না। আক্রান্ত শিশুদের শুরুতেই আইসোলেশনে রাখা, মাঝারি পর্যায়ে অক্সিজেনের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা এবং পুষ্টিসেবা জোরদার করা জরুরি। শুধু আইসিইউনির্ভর চিকিৎসা দিয়ে মৃত্যু কমানো যাবে না। রোগের শুরু থেকেই সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। আইসোলেশন, অক্সিজেন ও পুষ্টিÑ এই তিনটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেগুলো নিয়ে আমরা কাজ করছি। আশা করছি, এ মাসের শেষে মৃত্যুর সংখ্যা কমে আসবে। এখন আর নিশ্চিত হামে মৃত্যু নেই বললেই চলে। সন্দেহজনক হামেও কোনো শিশুর মৃত্যু হোক আমরা চাই না। তাই কোনো শিশুর হামের লক্ষণ দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি আমরা।

