চলছে পাটের ভরা মৌসুম। এ বছর জেলায় ২০২২৬ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। ভরা মৌসুমে চাষিরা ব্যস্ত সময় পার করছেন পাট কেটে পচানোর কাজে। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা ব্যস্ত লাইসেন্স নবায়ন ও নতুন লাইসেন্স পেতে। কিন্তু বিপত্তি বেধেছে এখানেই। জেলায় পাট অধিদপ্তরের অধীনে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নিঝুম টাওয়ারের দ্বিতীয় তালায় হাউস বিল্ডিংয় অফিসের সামনে মুখ্য পরিদর্শকের কার্যালয় এবং পাট উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয় নামে দুইটি অফিস থাকলেও তা সবসময়ই তালাবদ্ধ অবস্থায় থাকে। অফিসের দরজায় লেখা আছে জরুরি প্রয়োজন ও লাইসেন্সের জন্য আলাদা দুটি মুঠোফোন নাম্বার।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মুখ্য পরিদর্শকের কার্যালয় এবং পাট উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয়টি তালাবদ্ধ। দুইজন পাট ব্যবসায়ী এসেছেন সেখানে। একজন তার পুরোনো লাইসেন্স নবায়ন করবেন অপরজন নতুন লাইসেন্স করবেন। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা অফিসে এসে তালাবদ্ধ দেখতে পেয়ে দরজায় প্রদর্শিত নাম্বারে কল দেন। একটি নাম্বারে কল ঢুকলেও তা রিসিভ করেননি কেউ। অপরটি থেকে জানানো হয়েছে কাগজপত্রসহ যশোরে আসেন অথবা বিকাশে টাকা এবং কাগজপত্র কুরিয়ারের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেন। তারা দু’জনই বেশ কয়েকদিন ধরে ঘুরছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশিরভাগ সময়ই বন্ধ থাকে অফিসটি। অফিস দুটিতে দুইজন কর্মকর্তা দুইজনের একজন ও অফিসে আসেন না। পাটের লাইসেন্সের নানা সমস্যা নিয়ে অফিসে আসেন ব্যবসায়ীরা কিন্তু তাদের পাওয়া যায় না। সম্প্রতি পাট উন্নয়ন কর্মকর্তার বদলির আদেশ হওয়ার তিনি অফিসে আসছেন না। একজন মুখ্য পরিদর্শকের অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে সপ্তাহে একদিন অফিস করার কথা থাকলেও তিনি একেবারেই আসেন না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক দোকানি জানান, পাট অফিস সবসময় বন্ধ থাকে। লোকজন এসে কাউকে না পেয়ে ফিরে যায়।
পাট অধিদপ্তর ঝিনাইদহের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা মুখ্য পরিদর্শক তারেক রহমান বাপ্পী বলেন, অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ঝিনাইদহ দেখছি। যশোরে অফিস করি এবং মাঝে মাঝে ঝিনাইদহে যাই। তবে সপ্তাহে ঠিক কোন দিন ঝিনাইদহে অফিস করেন সে বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।
এ বিষয়ে জানতে সদ্য বদলির আদেশ হওয়া জেলা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান খানের মুঠোফোনে (০১৭১১-৯০১৮৮৪) একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। পাট অধিদপ্তর যশোর এর সহকারী পরিচালক মো. হাফিজুর রহমান বলেন, আমাদের জনবলের সংকট রয়েছে। এ বিষয়ে অধিদপ্তরে জানানো হয়েছে। তারা ব্যবস্থা নেবে বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, আমার কার্যালয়ের একজন মুখ্য পরিদর্শক অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ঝিনাইদহ এবং মাগুরা জেলা দেখছেন। সপ্তাহের ঠিক কোন দিনে তিনি সেখানে অফিস করেন তা জানা নেই। তবে সে ওই জেলা দুটির সকল কাজ যশোরে থেকেই করেন।

