সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নাজুক অবস্থা চোখে পড়ে। ওয়ার্ডের মেঝেতে ব্যবহৃত টিস্যু, স্যালাইনের প্যাকেট, ব্যান্ডেজ, তুলা, যত্রতত্র আবর্জনা, অপরিচ্ছন্ন বিছানার চাদর, দেয়ালে থুতু ও কাশির দাগ, জরাজীর্ণ জানালা ও দরজা, মশা-মাছির উপদ্রব এবং শৌচাগার থেকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ—এমন চিত্র দেখা যাচ্ছে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট এই হাসপাতালে।
হাসপাতালটি বিগত সময়ে জরুরি প্রসূতিসেবা ও সাধারণ স্বাস্থ্যসেবায় একাধিকবার জাতীয় পুরস্কার অর্জন করেছিল। তবে বর্তমানে হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা নিয়ে রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগের শেষ নেই।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন বহির্বিভাগে ২০০-৩০০ রোগী চিকিৎসা নেন। জরুরি বিভাগে আসে ১৫০-২০০ রোগী। অন্তর্বিভাগে ২০-২৫ জন রোগী ভর্তি থাকেন। রোগী ও স্বজন মিলিয়ে প্রতিদিন হাসপাতালে মানুষের সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৭০০-৮০০ জনে।
উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী অন্যান্য উপজেলার রোগীরাও জরুরি চিকিৎসার জন্য বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে আসেন।
হাসপাতালে মোট ১৪টি শৌচাগার রয়েছে। এর মধ্যে অন্তর্বিভাগে নারী, পুরুষ ও গাইনিসহ তিন ওয়ার্ডে ১০টি, জরুরি বিভাগে পাঁচটি এবং বহির্বিভাগে তিনটি টয়লেট রয়েছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, হাসপাতালের সব টয়লেটই দুর্গন্ধযুক্ত ও স্যাঁতসেঁতে। দোতলার পুরুষ ওয়ার্ডে তিনটি টয়লেট ও একটি গোসলখানার মেঝেতে ময়লা পানি জমে আছে। টয়লেটের প্রধান দরজার সিটকিনি ভেঙে যাওয়ায় নাইলনের দড়ি লাগানো হয়েছে। টয়লেটে ঢুকলেই দুর্গন্ধে বমির উপক্রম হয়, পা ভিজে যায় জমে থাকা পানিতে। টয়লেটের ট্যাপসহ যাবতীয় উপকরণ নষ্ট। দিনে দুবার পরিষ্কার করার বিধান থাকলেও অনেক সময় তা একবারও করা হয় না।
ওয়ার্ডের টয়লেটের পাশে বিছানায় পড়ে থাকে ব্যবহৃত স্যালাইনের পরিত্যক্ত প্যাকেট। বিছানার চাদরগুলো ভীষণ নোংরা। হাসপাতালের দোতলায় নারী ওয়ার্ডের একই অবস্থা দেখা যায়। টয়লেটে পানির ব্যবস্থা থাকলেও ভেতরে খুব দুর্গন্ধ। কয়েকজন রোগী নাক চেপে ভেতরে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। ওয়ার্ডের পাঁচটি বিছানার চাদরও নোংরা। কেবিনের তিনটি টয়লেটের অবস্থাও বেহাল। ফ্ল্যাশ কাজ করে না, কমোডে ময়লা জমে থাকে।
একজন কেবিনের রোগী জানান, টয়লেটের অবস্থা এত শোচনীয় যে ওপর থেকে বালতি বা মগ দিয়ে পানি ঢেলে ময়লা পরিষ্কার করে টয়লেট ব্যবহার করতে হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন রোগী বলেন, ‘এত নোংরা অবস্থা দেখে মনে হয়, এটি হাসপাতাল নয়, ভাগাড়।’
নারী ওয়ার্ডের রোগী চম্পা খাতুন বলেন, ‘রোগ সারাতে এসে নোংরা ও দুর্গন্ধময় পরিবেশে মনে হয় আমরা আবার অসুস্থ হয়ে পড়ব। বিষয়গুলো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।।’
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগে বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মনিরুল হক খান বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি ভালো সেবা দিতে। তারপরও টয়লেটগুলোর এমন অবস্থার কারণ বুঝতে পারছি না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি রোগী ও তাদের স্বজনদের সচেতন হওয়া জরুরি। অনেকেই ওয়ার্ডে ময়লা আবর্জনা, কাশি, থুতু ফেলেন।।’ তিনি জানান, বিদ্যমান সমস্যা শিগগিরই কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন