বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক যুবককে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীর গণপিটুনিতে ৭ জন আহত হয়ে আটক হন। এ সময় হামলাকারীদের ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
শনিবার (৪ জুলাই) সকালে উপজেলার জিয়ানগর ইউনিয়নের বড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, বড়িয়া গ্রামের ইমেল হোসেনের সঙ্গে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার দুলালী ভেলনা গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক লালুর পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে দুলালী মৌজার একটি জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এ বিষয়ে আদালতে একটি মামলাও বিচারাধীন রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, শনিবার সকালে আব্দুর রাজ্জাক লালুর নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি তিনটি মোটরসাইকেলে করে বড়িয়া গ্রামে এসে ইমেল হোসেনকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় ইমেলের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে একজনকে আটক করেন। অন্যরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
পরে আটক ব্যক্তিকে ছাড়িয়ে নিতে প্রতিপক্ষের আরও কয়েকজন ঘটনাস্থলে এলে গ্রামবাসীর সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে আরও কয়েকজনকে আটক করে গণপিটুনি দেওয়া হয়। এতে মোট ৭ জন আহত হন। এ সময় হামলাকারীদের ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী ইমেল হোসেন দাবি করেন, জমি-সংক্রান্ত মামলা তুলে নেওয়ার জন্য প্রতিপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে তাকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিল। শনিবার তাকে অপহরণের উদ্দেশ্যেই তারা গ্রামে এসেছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
খবর পেয়ে দুপচাঁচিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং গণপিটুনির শিকার ৭ জনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করে।
দুপচাঁচিয়া থানার ওসি তাজমিলুর রহমান বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন