কক্সবাজারের চকরিয়ায় শিক্ষক পরিবারকে মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ ওঠে উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের ইসলাম নগরস্থ দরগা পাড়া এলাকার জনৈক নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
একই এলাকার অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাস্টার বশির আহমদের নিজ বাড়িতে শুক্রবার (২৯ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পূর্ব শত্রুতার জেরে পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশ্য প্রণোদিত মানহানির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে দাবি জানান।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২৪ আগস্ট দিবাগত রাতে জনৈক নুরুল ইসলামের বাড়িতে ডাকাতি হয়। এরই প্রেক্ষিতে মাস্টার বশির আহমদের ছেলে সোহরাবুল কাইয়ুম রামিমের নেতৃত্বে ডাকাতি সংগঠিত হয়েছে মর্মে সোস্যাল মিডিয়ায় প্রচার করে তার বিরুদ্ধে থানায় এজাহার দায়ের করে নুরুল ইসলাম।
পরিবারের মানহানি এবং মামলা দিয়ে হয়রানির বিষয়ে মাস্টার বশির আহমদ বলেন, ‘আমি দীর্ঘ বত্রিশ বছর শিক্ষককতা শেষে অবসর গ্রহণ করি এবং আমার পরিবারের সুনাম রয়েছে। নুরুল ইসলামের সাথে ২০০৯ সাল থেকে বসতবাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধ চলছে এবং সেটা নিরসনের জন্য স্থানীয় গ্রাম আদালত, থানা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সেনাবাহিনীর কার্যালয়ে বেশ কয়েকবার সালিশি বৈঠকে আমার পক্ষে রায় দেন বিচারকগণ।
সেই শত্রুতার রেশ নিয়ে আমার পরিবারকে হেয়প্রতিপন্ন করার প্রয়াসে বিভিন্ন অপপ্রচার চালিয়ে আসছেন। আমার ছেলে রামিম জীবনে কোনোপ্রকার অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল না। প্রশাসনের কাছে আমার বিনীত অনুরোধ, নুরুল ইসলামের বাড়ি ডাকাতির বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হোক এবং নিরপরাধ কাউকে হয়রানি না করার জোর দাবি জানাচ্ছি।’
অভিযুক্ত পরিবারের বড় মেয়ে আফরোজা খানম সুমি বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি, তাদের পরিবার আমার পরিবারের সাথে সীমানা বিরোধসহ নানানভাবে ঝগড়াঝাটি লেগে থাকত। আমাদের বসতভিটায় জোরপূর্বক অবৈধ অনুপ্রবেশ ও জবর দখলে ২৩/০৩/২০০৯ তারিখে আমার মা জাহানারা বেগম বাদী হয়ে চকরিয়া থানায় দায়েরকৃত অভিযোগে আমাদের পক্ষে রায় হয়। পরবর্তী গত ২৩ জুন ২০২৩ তারিখ পুনরায় সীমা বিরোধ নিয়ে আমাদের ওপর হামলা করার পর চকরিয়া সেনা ক্যাম্পে অভিযোগের প্রেক্ষিতে নুরুল ইসলাম গং আমার পরিবারের সাথে ঝগড়া-বিবাদ ও হিংসাত্মক কাজ করবে না মর্মে মুচলেকা দেয়।’
এ ছাড়াও নুরুল ইসলামের পুত্র নেজাম উদ্দিন পুতু ড্রাইভার তার জীপ গাড়ি (চান্দের গাড়ী) বাড়িতে ঢুকিয়ে চলাচলের রাস্তা নষ্ট করায় বর্ষার মৌসুমে মানুষের যাতায়াতে যথেষ্ট দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এর প্রতিবাদ করতে গেলে আমার ওপর চড়াও হয়ে মারতে আসে পিতা-ছেলেসহ তার পরিবারের লোকজন।
সর্বশেষ, চলাচলে এলাকাবাসীর কষ্ট লাঘবে ১৯ জুন ২০২৫ ইং চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর (পুতু ড্রাইভারের বিরুদ্ধে) এলাকাবাসীর পক্ষে লিখিত অভিযোগ দায়ের করি, যার প্রসেস নং ৫২। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আমার পরিবারকে সমাজে হেয়প্রতিপন্ন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে ছোট ভাই রামিমকে সংঘটিত ডাকাতির ঘটনায় আসামি করে থানায় এজাহার দায়ের করেছেন নুরুল ইসলাম। আমি প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।’
চকরিয়া থানার ওসি তৌহিদ আনোয়ার বলেন, ‘২৪ আগস্ট দিবাগত-রাতে নুরুল ইসলামের বাড়ি ডাকাতির ঘটনায় এজাহার পাওয়ার পর আমি সরেজমিনে তদন্ত করার জন্য ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিদর্শন করি এবং তাদের বক্তব্য রেকর্ড করি।’
এ বিষয়ে চকরিয়া থানার ওসি (তদন্ত) ইয়াসিন মিয়া ও এসআই সাকিবকে অধিকতর তদন্তের জন্য দ্বায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং নিরপরাধ কোনো মানুষ যাতে হয়রানি না হয় সেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রামিমের পরিবারের পক্ষ থেকে তার অবস্থান নিশ্চিত করতে বাড়ির সিসি ক্যামেরা ফুটেজ থানায় জমা দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন বলে জানান তিনি।