ঢাকা শুক্রবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৫

উত্তরাখণ্ডে ফের মেঘভাঙা বৃষ্টিতে ৪ মৃত্যু, মাটিচাপা ৪০ পরিবার

বিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশিত: আগস্ট ২৯, ২০২৫, ০৫:১৪ পিএম
উত্তরাখণ্ডের রুদ্রপ্রয়াগ এলাকায় চলছে উদ্ধারকাজ। ছবি- সংগৃহীত

ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যে ফের মেঘভাঙা বৃষ্টিতে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শুক্রবার ভোরে শুরু হওয়া এই বর্ষণে এরইমধ্যে চার জনের মৃত্যু হয়েছে এবং তিন জন নিখোঁজ রয়েছেন। এ সময় ভূমিধসে প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি পরিবার মাটিচাপা পড়েছে এবং বহু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তরাখণ্ডের চামোলি, রুদ্রপ্রয়াগ, তেহরি ও বাগেশ্বর জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

উত্তরাখণ্ডের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাগেশ্বর জেলার কাপকোট এলাকার পৌসাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতে রাতভর বৃষ্টিতে অন্তত ছয়টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে এবং তিন জন নিখোঁজ রয়েছেন। এখন পর্যন্ত দুটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

চামোলি জেলার মোপাটা গ্রামে এক দম্পতি ভূমিধসে চাপা পড়ে মারা গেছেন এবং একজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রধান উন্নয়ন কর্মকর্তা অভিষেক ত্রিপাঠী। অন্যদিকে, রুদ্রপ্রয়াগ জেলার বাসুকেদার এলাকায় প্রবল বৃষ্টি ও ভূমিধসে অন্তত ৬ থেকে ৭টি গ্রামে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে তলজমান গ্রামে প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি পরিবার ধ্বংসস্তূপ এবং পানিতে আটকা পড়েছে বলে জানা গেছে।

রুদ্রপ্রয়াগের পুলিশ সুপার অক্ষয় প্রহ্লাদ জানিয়েছেন, জেলার চেনাগাড় এলাকায় চার স্থানীয় ও চার নেপালি নাগরিক ধ্বংসস্তূপে আটকা পড়েছেন। রাস্তার ৭ থেকে ৮টি স্থান ভেঙে যাওয়ায় উদ্ধারকারীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সমস্যার মুখে পড়ছেন।

এদিকে, সিউর গ্রামে একটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একটি গাড়ি ধ্বংসস্তূপে ভেসে গেছে। এ ছাড়া বাদেঠ, বাগদ্ধার ও তলজমানি গ্রামের দু’পাশের খাদ পানিতে প্লাবিত হয়ে গেছে।

উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, ‘রুদ্রপ্রয়াগ জেলার বাসুকেদার তেহসিলের বাদেঠ দুঙ্গার এবং চামোলি জেলার দেওয়াল এলাকায় মেঘভাঙা বৃষ্টিতে কিছু পরিবার আটকা পড়েছে বলে দুঃসংবাদ পাওয়া গেছে। স্থানীয় প্রশাসন ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। আমি কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি এবং দুর্যোগবিষয়ক সচিব ও জেলা প্রশাসকদের দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছি।’

এদিকে, প্রবল বৃষ্টিতে অলকানন্দা ও এর উপনদী এবং মন্দাকিনী নদীর পানি বিপজ্জনক হারে বাড়ছে। নদীর পাড়ে বসবাসকারী মানুষদের সতর্ক করতে মাইকিং করছে পুলিশ।

আবহাওয়া অধিদপ্তর আগামী ২৪ ঘণ্টার জন্য বাগেশ্বর, চামোলি, দেরাদুন ও রুদ্রপ্রয়াগে অতি ভারি বৃষ্টির আশঙ্কায় রেড অ্যালার্ট জারি করেছে।

এর আগে চলতি মৌসুমে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে উত্তরাখণ্ডে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গত ৫ আগস্ট খীর গঙ্গা নদীতে আকস্মিক বন্যায় গঙ্গোত্রী যাওয়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ধারালির অর্ধেক অংশ ধ্বংস হয়ে যায়। বহু হোটেল ও সেনা শিবির পানিতে ভেসে যায়। এ ঘটনায় অন্তত ৬৯ জন নিখোঁজ হন, যাদের মধ্যে ছিলেন ৯ জন সেনাসদস্যও।