গাজীপুরের শ্রীপুরে বাসা ভাড়া নেওয়ার কথা বলে কৌশলে পাঁচ বছরের এক শিশুকন্যাকে অপহরণের পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অপহরণকারী নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পরিচালিত অভিযানে ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর উপজেলা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে শ্রীপুর উপজেলার টেপিরবাড়ী এলাকার আমান বাংলা মোড়সংলগ্ন একটি বাড়ি থেকে অজ্ঞাত ওই নারী শিশুটিকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে শ্রীপুর উপজেলার টেপিরবাড়ী এলাকার আমান বাংলা মোড়সংলগ্ন একটি বাড়িতে অজ্ঞাত এক নারী হাজির হন। তিনি ওই বাড়িতে বাসা ভাড়া নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে গৃহকর্তার সঙ্গে কথাবার্তা বলেন। একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে বাড়ির পাঁচ বছর বয়সী শিশু মোছা. রহিমা খাতুনকে একা পেয়ে পাশের দোকান থেকে চকলেট কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখান। পরে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে শিশুটিকে নিয়ে পালিয়ে যান ওই নারী।
শিশুটি অপহরণের পরপরই অভিযুক্ত নারী পরিবারের সদস্যদের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। বিষয়টি জানতে পেরে শিশুটির বাবা মো. আব্দুল মালেক শ্রীপুর থানায় খবর দেন।
সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শ্রীপুর থানা পুলিশ দ্রুত অভিযান শুরু করে। মোবাইল ফোন ট্র্যাকিংসহ বিভিন্ন তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে অপহরণকারীর অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
পরে ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর থানাধীন রঘুনাথ গ্রামে অভিযান চালিয়ে অপহরণকারী মোছা. রোমেলা খাতুন (২৯)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার হেফাজত থেকে অপহৃত শিশু মোছা. রহিমা খাতুনকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
শ্রীপুর থানার ওসি মোহাম্মদ নাছির আহমদ বলেন, ‘শিশু অপহরণের ঘটনাটি আমাদের কাছে অত্যন্ত স্পর্শকাতর ছিল। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অভিযান শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আমরা দ্রুত অপহরণকারীর অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হই এবং নিরাপদে শিশুটিকে উদ্ধার করি। শিশুটি বর্তমানে সুস্থ রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। শিশু ও নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সব সময় তৎপর রয়েছে। কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিলে তাকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।’
এ ঘটনায় শ্রীপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০২০-এর ৭/৮ ধারায় রুজু করা হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, দিনের আলোতে এভাবে শিশু অপহরণের ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে শিশুটি উদ্ধারের ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

