গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ীতে এক হোমিও চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, তার চিকিৎসার পরই ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারীর গর্ভে থাকা যমজ দুই সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সোমবার (২৮ জুলাই) বিকেলে মহানগরীর কোনাবাড়ী নামাপাড়া মুক্তিযোদ্ধা মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে রাতের দিকে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর অভিযুক্ত হোমিও চিকিৎসক চেম্বার বন্ধ করে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার।
ভুক্তভোগী হোসনেয়ারা বেগম স্থানীয় একটি তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিক। পরিবারের সদস্যরা জানান, তিনি ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন এবং তার গর্ভে যমজ সন্তান ছিল। প্রসববেদনা ও শারীরিক জটিলতা অনুভব করায় চিকিৎসার জন্য তাকে ওই হোমিও চিকিৎসকের চেম্বারে নেওয়া হয়।
পরিবারের অভিযোগ, রোগীর শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়া সত্ত্বেও তাকে কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বা হাসপাতালে রেফার না করে হোমিও চিকিৎসক নিজেই চিকিৎসা দেন এবং কিছু ওষুধ সেবন করান। তাদের দাবি, ওষুধ সেবনের প্রায় ১৫ মিনিটের মধ্যেই হোসনেয়ারা বেগমের গর্ভে থাকা যমজ দুই সন্তানের নড়াচড়া বন্ধ হয়ে যায়। পরে অন্যত্র চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে জানানো হয়, গর্ভের দুই সন্তানই মারা গেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, সময়মতো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে পাঠানো হলে হয়তো এমন মর্মান্তিক পরিণতি এড়ানো সম্ভব হতো। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত হোমিও চিকিৎসক গা-ঢাকা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তার চেম্বারও বন্ধ পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোনাবাড়ী থানার ওসি মো. ইফতেখার হোসেন বলেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন