রাজশাহী শহরকে বন্যা, নদীভাঙন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে সুরক্ষা দিতে নির্মিত শহর রক্ষা বাঁধের একটি বড় অংশ বছরের পর বছর ধরে অবৈধ দখলের কবলে রয়েছে। বাঁধের ঢাল ও সংরক্ষিত এলাকায় গড়ে উঠেছে বসতঘর, দোকানপাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ নানা ধরনের স্থাপনা। এতে বাঁধের নিরাপত্তা যেমন হুমকির মুখে পড়েছে, তেমনি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম। দীর্ঘদিনের সেই অবৈধ দখল উচ্ছেদে এবার মাঠে নেমেছে জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে নগরীর কেশবপুর দক্ষিণপাড়া টি-বাঁধ এলাকায় যৌথভাবে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে অবৈধভাবে নির্মিত একটি স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়। জেলা প্রশাসনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিজিৎ সরকারের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শহর রক্ষা বাঁধ কেবল একটি মাটির বাঁধ নয়; এটি রাজশাহী নগরীর লাখো মানুষের জীবন, সম্পদ ও অর্থনীতির সুরক্ষাব্যবস্থা। বাঁধের সংরক্ষিত এলাকায় স্থাপনা নির্মাণের ফলে বাঁধের কাঠামোগত স্থায়িত্ব দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি জরুরি মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমও ব্যাহত হয়। ফলে বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, উচ্ছেদ অভিযান শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট দখলদারদের একাধিকবার লিখিত নোটিশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি মাইকিং করে স্বেচ্ছায় স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। অনেকেই প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে স্থাপনা অপসারণ করলেও কিছু ব্যক্তি সরকারি জমি দখল করে থাকায় তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা হিসেবে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান অঙ্কুর বলেন, রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধকে দখলমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় অভিযান শুরু হয়েছে। কেশবপুর এলাকায় কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পর্যায়ক্রমে জেলার অন্যান্য চিহ্নিত এলাকাতেও একই ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হবে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিজিৎ সরকার বলেন, একাধিকবার নোটিশ ও মাইকিংয়ের পরও যারা অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করেননি, তাদের বিরুদ্ধে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। জনস্বার্থে শহর রক্ষা বাঁধের সংরক্ষিত এলাকার পুরো অংশজুড়ে এই কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয়দের মতে, অতীতেও বিচ্ছিন্নভাবে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হলেও পরে আবার নতুন করে দখল হয়েছে। তাই শুধু উচ্ছেদ নয়, ভবিষ্যতে যাতে পুনরায় দখল না হয়, সে জন্য নিয়মিত নজরদারি, সীমানা চিহ্নিতকরণ এবং আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের অভিমত, অবৈধ দখলমুক্ত করার পাশাপাশি বাঁধের সংরক্ষিত এলাকায় স্থায়ী নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলা, নিয়মিত পরিদর্শন এবং স্থানীয় জনগণকে সচেতন করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে শহর রক্ষা বাঁধ দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ রাখা সম্ভব হবে।
প্রশাসনের দাবি, এবার শুধু একটি এলাকা নয়, পুরো শহর রক্ষা বাঁধকে দখলমুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েই অভিযান শুরু হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় পর্যায়ক্রমে চিহ্নিত সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন