ঠাকুরগাঁওয়ে ১৮ জন শিশু হাম-রুবেলায় আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে দুজন হাম ও দুজন রুবেলায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন। বাকি শিশুরা নিজের বাড়িতে তত্ত্বাবধানে রয়েছে। এ ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে।
সিভিল সার্জন ডা. আনিছুর রহমান জানান, আক্রান্ত ১৮ শিশুকে তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। হাম পরীক্ষার জন্য ৬ শিশুর নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল। তার মধ্যে দুজনের হাম ও আরও দুজনের রুবেলা শনাক্ত হয়েছে। আশপাশের এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। যাতে নতুন করে সংক্রমণ ছড়াতে না পারে। ২০২৪ সালের পর এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক টিকা ক্যাম্পেইন না হওয়ায় এ সমস্যা দেখা দিয়েছে বলেও তার ধারণা।
স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হামে আক্রান্ত শিশুদের জ্বর, শরীরে ফুসকুড়ি, কাশি ও চোখ লাল হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। হাম অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। যা হাঁচি-কাশির মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
অন্যদিকে রুবেলা তুলনামূলক কম গুরুতর হলেও শিশু ও গর্ভবতী নারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। সময় মতো চিকিৎসা না নিলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া বা অন্যান্য জটিলতা দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানান, টিকাদানে অনীহা বা অসম্পূর্ণ টিকাদানের কারণে সংক্রমণ বাড়তে পারে। শিশুদের নির্ধারিত সময়ে এমআর (হাম-রুবেলা) টিকা নিশ্চিত করতে হবে। জ্বর ও ফুসকুড়ি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। আক্রান্ত শিশুকে অন্য শিশুদের থেকে আলাদা রাখতে হবে।
ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. ফিরোজ জামান জুয়েল বলেন, ‘হাম মোকাবিলায় হাসপাতালে চার শয্যার আইসোলেশন ইউনিট চালু করা হয়েছে। দুজন শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে তারা বাড়িতে চিকিৎসাধীন।’
সিভিল সার্জন ডা. আনিছুর রহমান উপসর্গ দেখা দিলে আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।


