ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

মিরপুরে সকাল থেকে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ

শাওন সোলায়মান
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম
গ্লোরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভোটকেন্দ্র। ছবি : সংগৃহীত

তিনটি নির্বাচনি আসনে বিন্যস্ত থাকা রাজধানীর বৃহত্তর মিরপুর এলাকায় সকাল থেকেই শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬-এর ভোটগ্রহণ পর্বের অর্ধেক সময় পর, অর্থাৎ দুপুর ১২টা পর্যন্ত মিরপুরের তিনটি আসন ঢাকা ১৪, ১৫ ও ১৬-তে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার তথ্য পাওয়া যায়নি; বরং নির্বাচনের গতানুগতিক চেহারার বদলে প্রার্থীদের মাঝে একে অপরের প্রতি সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ দেখা যায়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই নিজ নিজ কেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করছেন প্রার্থীরা। এমন প্রেক্ষাপটে ভোটারদের মাঝেও ভোট প্রদানে উৎসাহ দেখা গেছে। দীর্ঘদিন পর এমন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটের আয়োজন দেখে প্রার্থী এবং ভোটারদের মাঝে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। 

বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার কিছু পরে মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের বালক শাখায় ভোট দেন মিরপুরের সবচেয়ে আলোচিত আসন ঢাকা-১৫-এর দাঁড়িপাল্লা মার্কার প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

ভোট প্রদান শেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় যুগ দেশবাসী কোনো ভোট দিতে পারেনি, আমিও পারিনি। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে আমরা ভোট দেওয়ার সুযোগ পাইনি। তিনটি ভোট হারানোর পর আল্লাহ আজ আমাদের ভোট দেওয়ার সুযোগ দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, আমি বিশ্বাস করি, শুধু আমি নই, বিশেষ করে যুবসমাজ—যারা জীবনে একটা ভোটও দিতে পারেনি—তারা আজকের এই ভোটের জন্য বড় অপেক্ষায় ছিল। এই ভোট শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু, সন্ত্রাস ও দখলমুক্ত হোক। এটি যেন সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়, সেই দোয়া করি। ভোট সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে সকলের রায় মেনে নেওয়া উচিত বলেও এ সময় মন্তব্য করেন জামায়াতের আমির। বিষয়টিকে তিনি ‘গণতন্ত্রের সৌন্দর্য’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

এর ঘণ্টাখানেক পর সকাল পৌনে ১০টার দিকে এই আসনের কেন্দ্র আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে জামায়াতের আমিরের সাক্ষাৎ হয় তার প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ মার্কায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের সাথে। এ সময় একে অপরকে আলিঙ্গন করে কুশল বিনিময় করেন দুই প্রার্থী।

কুশল বিনিময়কালে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন জামায়াত আমিরকে উদ্দেশ করে বলেন, আমরা দুজন ভাই ভাই। যেই জিতি এলাকার মানুষের জন্য একসঙ্গে কাজ করব।

উত্তরে জামায়াতের আমির বলেন, ‘একসঙ্গে সৌহার্দ্য বজায় রেখেই আমরা দেশ গড়ব। ঢাকা-১৫ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১২৭টি এবং মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৫১ হাজার ৭১৮ জন।

এদিকে ঢাকা-১৬ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপি প্রার্থী সাবেক তারকা ফুটবলার আমিনুল হক সকাল ৯টায় স্বপরিবারে ভোট দিতে আসেন ইস্টার্ন হাউজিং-এর আহসানিয়া মিশন কলেজ কেন্দ্রে।

ভোট প্রদানের পর সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে আমিনুল হক বলেন, এখন পর্যন্ত সুন্দরভাবে ভোটগ্রহণ চলছে। এখন অন্য কেন্দ্রগুলোও দেখব। এখন পর্যন্ত তেমন কোনো অভিযোগ পাইনি। আলহামদুলিল্লাহ, ভোট চলমান । ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ রয়েছে। এ সময় আমিনুল হকের জয়ের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তার সহধর্মিণী বিলকিস আরা নিপা এবং ছেলে আয়ান ইসলাম। 

সকাল সোয়া ১০টার দিকে এই আসনের একটি স্কুলে ভোট দেন আমিনুলের প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আবদুল বাতেন।

ভোট প্রদান শেষে তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ বিজয় এখন সময়ের অপেক্ষা। সত্যের জয় হবেই। ঢাকা-১৬ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১৩৭টি এবং মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৪৯৯ জন।

মিরপুরের তিনটি আসনের মধ্যে ঢাকা-১৪-তে বুধবার রাতেই বেশ উত্তেজনাকর পরিস্থিতির তৈরি হয়। একটি কেন্দ্রে জামায়াতের নেতাকর্মীদের সাথে রাতে প্রিসাইডিং অফিসারের বৈঠকের অভিযোগে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এমনকি গভীর রাতে উপস্থিত হতে হয় এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমানকে। যদিও বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সপরিবারে মিরপুর কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেন আরমান।

ভোটগ্রহণ এবং গণনা নির্বিঘ্নে হলে যেকোনো ফল মেনে নেবেন উল্লেখ করে ভোট প্রদান শেষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে এই প্রার্থী বলেন, নির্দ্বিধায় বলছি, এখন পর্যন্ত যেভাবে চলছে, গণনা এবং ফলাফল যদি নির্বিঘ্নে হয়, যেই ঘোষণাই আসুক, আমরা মেনে নিব। এ সময় রাতের ঘটনাকে ‘বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়ানো’ বলে মন্তব্য করেন।

অন্যদিকে বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখছেন এই আসনে বিএনপি প্রার্থী সানজিদা ইসলাম তুলি। ভোটাররা তার পক্ষে আছেন এবং বিজয়ের বিষয়ে শতভাগ আশাবাদী বলে এ সময় দাবি করেন ধানের শীষের এই প্রার্থী। ঢাকা-১৪ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১৭৩টি এবং মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৪৪ জন।