জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘গণহত্যায় জড়িত’ আওয়ামীপন্থি সাংবাদিকদের ‘অবৈধ’ সংগঠনকে আবারও জায়গা দিলে তা প্রতিহত করবে ‘জুলাই ঐক্য।’
‘চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে’ জুলাই-আগস্ট মাসে অনিবন্ধিত সংগঠন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (আওয়ামীপন্থি) নেতারা সরাসরি ‘গণহত্যার’ পক্ষে অবস্থান নিয়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে নানাভাবে চিহ্নিত করেছিল। এই ‘অবৈধ’ সংগঠনের নেতা ও সদস্যরা গত ১৫ বছর ‘হাসিনা সরকারের’ গুম, খুন, হামলা, মামলাসহ সব অপকর্মকে বৈধতা দিয়েছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সরাসরি স্বৈরাচারী শাসনের পক্ষে সাংবাদিকতার নাম ব্যবহার করে মাঠে ছাত্রজনতার বিরুদ্ধে অবস্থান করেছিল।
ডিইউজে (আওয়ামীপন্থি) এই সংগঠনের নেতাদের নামে একাধিক হত্যা মামলা রয়েছে। চব্বিশ সালের ৫ আগস্ট হাসিনা দেশ ছেড়ে পালানোর সঙ্গে সঙ্গে ‘অবৈধভাবে’ প্রেসক্লাবে দখল করা ডিইউজের নেতারা অফিস তালা দিয়ে পালিয়ে যায়। একই দিন রাতে ‘বিপ্লবী’ সাংবাদিকরা আওয়ামীপন্থি সাংবাদিকদের সেই অফিস থেকে হাসিনা ও মুজিবের ছবি বের করে নতুন করে তালা ঝুলিয়ে দেয়।
গত এক বছরের বেশি সময় ধরে অফিসটি বন্ধ আছে। ‘জুলাই ঐক্য’ জানতে পেরেছে যে, এই অফিসটি নতুন করে চালু করার মাধ্যমে আওয়ামী পুনর্বাসনের আলোচনা হচ্ছে।
‘আমরা স্পষ্টভাবে সতর্কতার সঙ্গে ঘোষণা দিচ্ছি, প্রেস ক্লাবের মতো জায়গায় আবারও যদি আওয়ামী লীগের সাংবাদিকদের পুনর্বাসনের অপচেষ্টা করা হয়, তাহলে বিপ্লবী সাংবাদিক এবং ছাত্রজনতাকে সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিহত করা হবে। এখানে যদি কারও অফিস খুলতে হয়, তাহলে জুলাইয়ে ভূমিকা রাখা সাংবাদিকরা অফিস করবে। অথবা বর্তমানে প্রেস ক্লাবে থাকা জাতীয়তাবাদী ও ইসলামিক মতাদর্শের বাংলাদেশপন্থি সংগঠন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন এবং বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন পুরো অফিসটি পরিচালনা করবে।’
একই সঙ্গে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, অবিলম্বে যেসব ‘কথিত গণহত্যার সহযোগী’ সাংবাদিকদের নামে হত্যা মামলা রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে। অন্যথায়, শহীদ পরিবার মাঠে নেমে এলে তার দায়ভার সবাইকে গ্রহণ করতে হবে।
প্রেস ক্লাব কর্তৃপক্ষের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলা হয়েছে, অবিলম্বে এখনো যে সব হত্যা মামলার আসামি সাংবাদিকরা জাতীয় প্রেস ক্লাবের সদস্য পদে আছেন, তাদের সদস্যপদ বাতিল করুন। একই সঙ্গে এসব সাংবাদিকদের প্রেস ক্লাবে প্রবেশ বন্ধ করুন।
আপনার ফেসবুক প্রোফাইল থেকে মতামত লিখুন