‘এনবিআরের রাজস্ব আদেয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব’ বলে মনে করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। রাষ্ট্রায়ত্ব প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এর জন্য ‘টিম এনবিআর’ হিসেবে কাজ করা প্রয়োজন। এই টিমে কাস্টমস, ভ্যাট এবং ইনকাম ট্যাক্স—এই তিনটি বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করবে। ৬ লাখ কোটি টাকা আহরণের রোডম্যাপ করা হচ্ছে। বিভেদ ভুলে টিমওয়ার্কের মাধ্যমে কাজ করলে এবং রাজস্ব ফাঁকি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনা সম্ভব এবং ৬ লাখ কোটি টাকা আদায় করাও সম্ভব।
রোববার (৫ জুলাই) জাতীয় রাজস্ব ভবনে শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন নতুন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব। বৈঠকে ‘বিভেদ ভুলে’ সবাইকে ঐক্যবন্ধভাবে কাজ করতে চেয়ারম্যান আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘টিম এনবিআর’ নামটি নতুন চেয়ারম্যানের দেওয়া।
উদাহরণস্বরূপ তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম পোর্টে আসা কন্টেইনারগুলোর সঠিক ভ্যালুয়েশন নিশ্চিত করতে পারলে এবং অন্তত ৬০% নিখুঁতভাবে কাজ করতে পারলেই রাজস্বে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব। কর্মকর্তাদের এমনভাবে কাজ করতে হবে- যেন তারা এই প্রতিষ্ঠান এবং সরকারের লক্ষ্যকে নিজের মনে করে ধারণ করেন’।
‘কাজের পরিবেশ ও অভ্যন্তরীণ সমন্বয় করতে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এনবিআরে আলাদা কোন টিম হবে না। তবে একটি অনানুষ্ঠানিক টিম হিসেবে সবাইকে এখানে কাজ করতে হবে’ বলেন তিনি।
রোববার জাতীয় রাজস্ব ভবনে শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নির্দিষ্ট কিছু কর্মকর্তাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার মাধ্যমে একটি বার্তা দেওয়া হয়েছে, যা কর্মকর্তাদের বুঝতে হবে। এ ছাড়া বিভিন্ন নেতিবাচক পরিস্থিতি এবং ‘ভুইফোঁড়’ ব্যক্তিদের উৎপাত নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে, যারা কর্মকর্তাদের নানাভাবে যন্ত্রণা দেয়।
তবে চেয়ারম্যান আশ্বস্ত করেছেন যে, কোনো অভিযোগ পেলেই তিনি ব্যবস্থা নেবেন, যা কর্মকর্তাদের সাহস জোগাচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘৬ লাখ কোটি টাকার রোডম্যাপ ও টার্গেট বিভেদ ভুলে টিমওয়ার্কের মাধ্যমে কাজ করলে এবং রাজস্ব ফাঁকি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনতে পারলে ৬ লাখ কোটি টাকা আদায় করা সম্ভব। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য একটি রোডম্যাপ নির্মাণের কাজ চলছে। এক্ষেত্রে মাইক্রো এবং ম্যাক্রো উভয় লেভেলের পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে বন্ড ইস্যু, ভ্যাটের নিরীক্ষা এবং হাইকোর্টে পেন্ডিং থাকা মামলাগুলো নিষ্পত্তির বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’
‘অর্থমন্ত্রী এবং আইনমন্ত্রী স্বয়ং এই বিষয়গুলো দেখভাল করছেন। কর্মপরিকল্পনা ও সময়সীমা- এই সমন্বিত উদ্যোগটি পুরোপুরি দাঁড় করাতে প্রায় এক মাস সময় লাগবে। তবে এই সময়ে বসে না থেকে স্বল্পমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করতে হবে।’
‘লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সময়সীমা হিসেবে জুন ২০২৭-কে মাথায় রেখে প্রতি মাসেই সমান গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে’ বলেন তিনি। ‘কর্মকর্তাদের দৈনিক কর্মঘণ্টার মধ্যে অন্তত ৫ ঘণ্টা নিবিড়ভাবে কাজ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কাজের প্রসেস অনুযায়ী কোনো ফাইল পেন্ডিং না রাখলে এবং দ্রুত কেস ডিসপোজাল দিলে সেখান থেকেই রাজস্ব আদায়ের পথ তৈরি হবে’ বলেন এনবিআরে শীর্ষ এই কর্মকর্তা।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন