মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা ও সভাপতি আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন বলেছেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কর্তৃক জগন্নাথ কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঘোষণা করার দাবিতে সে সময়ের বিভিন্ন ছাত্রনেতারা একমঞ্চে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করেছিলেন। সেই ঐক্যের ধারাবাহিকতায় অ্যালামনাইদেরও বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী ও সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, কিছু মানুষ সংগঠন ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের জন্য তৈরি হন, যারা ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করে যান। এ ধরনের ব্যক্তিত্বকে সামনে এনে সংগঠনের নেতৃত্বে স্থান দেওয়া প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে তিনি সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন এবং অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শরীফ মোশাররফ হোসেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, অ্যালামনাইদের দল ও মতের ঊর্ধ্বে উঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে এগিয়ে আসতে হবে। অর্থনীতি বিভাগের অ্যালামনাইদের মধ্যে বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একাধিক সদস্য সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন, যা সমগ্র বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের জন্য গর্বের বিষয়। তিনি আরও জানান, আগামী বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের পূর্বেই কেন্দ্রীয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠন করা হবে।
উপাচার্য বলেন, বাংলাদেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক, তিনবারের সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৫ সালের ২ নভেম্বর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণার মাধ্যমে এ প্রতিষ্ঠানের ভিত্তি স্থাপন করেন। এ কারণেই আগামীতে ২ নভেম্বর একই সঙ্গে ঘোষণা দিবস ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস পালন করা হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, মহান জাতীয় সংসদে ২০০৫ সালের ২০ অক্টোবর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়টির আইন পাস হয়। পূর্বে প্রতি বছর ২০ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় দিবস পালিত হলেও এখন থেকে ২ নভেম্বর তারিখে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদ্যাপিত হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন বলেন, যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা ও শক্তির অন্যতম ভিত্তি তার অ্যালামনাই। অ্যালামনাইদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বড় অর্জন। তারা নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করলে বিশ্ববিদ্যালয় আরও গতিশীলভাবে এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অর্থনীতি বিভাগের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. জহিরুল ইসলাম শিকদার। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ সজল।
অনুষ্ঠানের শুরুতে অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মহসিন বিশ্বাস সাংগঠনিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। এ ছাড়া বিভিন্ন অ্যালামনাই সদস্য তাদের শিক্ষাজীবনের স্মৃতিচারণ, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে মতামত প্রদান করেন।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন