ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

যে কারণে রোজায় স্কুল খোলা রাখতে চায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬, ০৮:৫১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

রমজান মাসে মাধ্যমিক ও নিম্ন-মাধ্যমিক বিদ্যালয় খোলা রাখার বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামীকাল (১৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশনার পর ধারণা করা হচ্ছিল, শিক্ষা মন্ত্রণালয় আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) থেকে ছুটি ঘোষণা করবে। তবে দেখা গেছে, মন্ত্রণালয় নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড়।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত থাকায় ৭ মার্চ পর্যন্ত নিয়মিত ক্লাস চলবে। ৮ মার্চ থেকে স্কুলে ঈদুল ফিতরের ছুটি শুরু হবে।

তারা জানান, মন্ত্রণালয় হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেছে। আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত রমজানে স্কুল বন্ধ রাখার হাইকোর্টের আদেশে স্থগিতাদেশ দিয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বক্তব্যে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক অস্থিরতা, শিক্ষকদের আন্দোলন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বছরে নির্ধারিত ক্লাস ঠিকমত হয়নি। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বড় ধরনের শিখন ঘাটতি তৈরি হয়েছে। রমজানের প্রথমার্ধে (১৫ দিন) স্কুল খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যাতে এই ঘাটতি কিছুটা পূরণ করা যায়।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব রেহেনা পারভী বলেন, ‘ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাস হলো নিরবচ্ছিন্ন পাঠদানের জন্য উপযুক্ত সময়। এবার সেই সময় রমজানের সঙ্গে পড়েছে। ক্লাস চালু থাকলে শিক্ষার্থীদের ঘাটতি কমবে। রমজানের পর গ্রীষ্মকালীন ছুটি ও কোরবানির ঈদ রয়েছে, তাই বছরের শুরুতেই কিছুদিন ক্লাস চলা প্রয়োজন।’

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ও একই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০২৫ সালে যেখানে বাৎসরিক ছুটি ছিল ৭৬ দিন, এবার তা কমিয়ে ৬৪ দিন করা হয়েছে। রমজানের প্রথম ১৬–১৭ দিন স্কুল খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

শিক্ষক ও অভিভাবকরা এই সিদ্ধান্তে পুরোপুরি একমত নন। রাজধানীর কিছু স্কুলের শিক্ষক জানান, রমজানে ছাত্র-ছাত্রীরা ক্লাসে মন দেয় না। তবে কিছু শিক্ষক মনে করেন, কর্মঘণ্টা কমিয়ে রমজানে ক্লাস রাখা যেতে পারে, যাতে শিক্ষার্থীরা বছরের শুরুতেই পড়ালেখায় এগিয়ে যায়।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমিরেটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমদ বলেন, ‘ক্লাসের সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন। রমজানে দিনে ৬টির পরিবর্তে ৩টি বিষয় নিয়ে ক্লাস করা যেতে পারে। মন্ত্রণালয় শিক্ষার অংশীজনদের পরামর্শ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাই হঠাৎ তা বাতিল করা যৌক্তিক হবে না।’

এদিকে ধারণা করা হচ্ছে- আগামীকাল বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রণালয়ের আপিলের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে, যা থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে।