ঢাকা রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫

ইনুর বিরুদ্ধে সূচনা বক্তব্যসহ সাক্ষ্যগ্রহণ আজ

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: নভেম্বর ৩০, ২০২৫, ০৮:৩৫ এএম
হাসানুল হক ইনু। ছবি- সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে আজ রোববার (৩০ নভেম্বর) প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করা হবে। একইসঙ্গে প্রথম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণও অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে সূচনা বক্তব্যের পর সাক্ষী পেশ শুরু হবে। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

এদিকে, আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন করেছেন ইনু। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে 'সো-কলড' উল্লেখ করলেও প্রসিকিউশন তা রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল মন্তব্য বলে মনে করছে। একইসঙ্গে ইনুর আবেদনটি বাতিলেরও আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। এ বিষয়ে আজ ট্রাইব্যুনাল আদেশ দিতে পারে।

এর আগে, ২ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল-২ ইনুর বিরুদ্ধে আনা আটটি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেয় এবং আজকের দিন সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য নির্ধারণ করে। ওইদিন বিচারক তাকে অভিযোগগুলো পড়ে শোনালে ইনু নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করেন। ২৮ অক্টোবর তার পক্ষে শুনানিতে সিনিয়র আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী অভিযোগগুলোর সত্যতা নেই দাবি করে অব্যাহতির আবেদন করেন। তবে প্রসিকিউশন জানিয়েছিল  ১৪ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা হিসেবে ইনু কোনোভাবেই দায় এড়াতে পারেন না।

চলতি বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর এই মামলায় ইনুকে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ ছিল। ২৫ সেপ্টেম্বর জুলাই-আগস্টে গণহত্যায় সহযোগিতাসহ সুনির্দিষ্ট আটটি অভিযোগ এনে প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে। শুনানি শেষে আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করে।

গত বছরের ২৬ আগস্ট রাজধানীর উত্তরা থেকে হাসানুল হক ইনুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি বর্তমানে একাধিক মামলায় কারাবন্দি। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তিনি তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়ায় জোটের প্রার্থী হিসেবে তিনি আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন।

জুলাই–আগস্ট আন্দোলনে কুষ্টিয়ায় শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী ও চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ নিহত হন। আহত হন বহু মানুষ। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ইনুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়। তদন্ত শেষে প্রসিকিউশন উসকানি, ষড়যন্ত্রসহ মোট আটটি অভিযোগ আনে। তাদের দাখিল করা ফরমাল চার্জ ৩৯ পৃষ্ঠার, যেখানে সাক্ষী রাখা হয়েছে ২০ জনকে। এছাড়া তিনটি অডিও ও ছয়টি ভিডিও নথি উপস্থাপন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।