গতকাল ইংল্যান্ডের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে ডি আর কঙ্গো। এবার সেই দেশের সঙ্গে যৌথভাবে বিশ্বের শীর্ষে উঠে এসেছে বাংলাদেশও। তবে এটি কোনো খেলা নয়—দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষস্থান পেয়েছে এই দুই দেশের রাজধানী শহর।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে ১৫২ বায়ু মান সূচক স্কোর অনুযায়ী বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় ডি আর কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসা এবং বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা ছিল প্রথম স্থানে।
বায়ু মান সূচক স্কেল অনুযায়ী, ঢাকার বাতাসের মান ছিল ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে। অর্থাৎ বাতাসে দূষণকারী উপাদানের ঘনত্ব এমন মাত্রায় পৌঁছেছে, যা সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
তালিকায় ভারতের রাজধানী দিল্লি ছিল দ্বিতীয় অবস্থানে। দিল্লির বায়ু মান সূচক স্কোর ছিল ১৪৫। এরপর ছিল ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা, যার স্কোর ছিল ১৩২। বায়ু মান সূচক স্কোর ১০৭ নিয়ে চতুর্থ স্থানে ছিল জেরুজালেম।
বায়ু মান সূচক মানদণ্ড অনুযায়ী, ১০১ থেকে ১৫০ স্কোরকে ‘সংবেদনশীল জনগোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’, ১৫১ থেকে ২০০ ‘অস্বাস্থ্যকর’, ২০১ থেকে ৩০০ ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১-এর বেশি ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এসব পর্যায়ে বায়ুদূষণ মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বায়ু মান সূচক হলো বায়ুর মানের দৈনিক সূচক, যা বাতাস কতটা পরিষ্কার বা দূষিত এবং এর ফলে মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে—তা নির্দেশ করে।
বাংলাদেশে বায়ু মান সূচক নির্ধারণ করা হয় পাঁচটি প্রধান দূষকের ঘনত্বের ভিত্তিতে। এগুলো হলো— বায়ুকণিকা (পিএম দশ ও পিএম দুই দশমিক পাঁচ), নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড, সালফার ডাই অক্সাইড এবং ওজোন।
ঢাকা দীর্ঘদিন ধরেই বায়ুদূষণের সমস্যায় ভুগছে। সাধারণত শীতকালে দূষণের মাত্রা বেড়ে যায়, আর বর্ষা মৌসুমে বায়ুর মান কিছুটা উন্নত হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে, বায়ুদূষণের কারণে প্রতি বছর বিশ্বে প্রায় সত্তর লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। এর প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে- স্ট্রোক, হৃদরোগ, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসনালীর রোগ, ফুসফুসের ক্যানসার এবং তীব্র শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ ছাড়াও আরও কিছু রোগ।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন