ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে কেন্দ্র সরকার। সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দাবি, তাকে অপসারণ করা সমস্যার সমাধান নয়; বরং তা দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার শামিল।
আজ শুক্রবার (২৪ জুলাই) এক সরকারি সূত্র জানায়, ‘পদত্যাগ মানে পালিয়ে যাওয়া, আর পালিয়ে যাওয়া কোনো সমাধান নয়।’ (খবর- দ্য প্রিন্ট)
সূত্রটি জানায়, আগামী সোমবার সংসদে বিদ্যমান আইনের একটি সংশোধনী আনা হবে।
সরকারের দাবি, প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত দাবির প্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এটি কোনো নতুন বিল নয়; বরং বিদ্যমান আইনের সংশোধনী। এর লক্ষ্য ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)-এর কার্যক্রমে চিহ্নিত নির্দিষ্ট ত্রুটিগুলো দূর করা।
সরকারি সূত্রের ভাষ্য, ‘এক মাসের মধ্যে এনটিএর সব সমস্যা শতভাগ সমাধান করা হবে। আমরা সমস্যাগুলোর তালিকা করেছি এবং সেগুলোর সমাধানে কাজ করছি।’
সমস্যা সমাধান করাই সরকারের মূল দায়িত্ব, বলে জানিয়েছে সূত্রটি।
এ ছাড়া প্রস্তাবিত সংশোধনীর মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও সংঘবদ্ধ প্রতারণার মামলার তদন্তে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর ক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে এবং মূল আইনের প্রয়োগসংক্রান্ত বিধান আরও শক্তিশালী করা হবে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) অ্যাক্ট, ২০২৪ সংসদে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাস হয় এবং পরে গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। এই আইনে এনটিএ, ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন (ইউপিএসসি), স্টাফ সিলেকশন কমিশন (এসএসসি), রেলওয়ে ও ব্যাংকিং নিয়োগ বোর্ডসহ বিভিন্ন সংস্থার পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস, ছদ্মবেশ ধারণ এবং প্রশ্নপত্র বিক্রিকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
আইনে সংঘবদ্ধ প্রতারণা চক্রের সদস্যদের জন্য কারাদণ্ড ও মোটা অঙ্কের জরিমানার বিধানও রয়েছে। সরকারি সূত্রের দাবি, আইনটি কার্যকর হওয়ার পর এর আওতায় একাধিক প্রতারণা চক্র ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
সরকারি সূত্র আরও জানায়, ১৯৮৬ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর আমলে প্রণীত জাতীয় শিক্ষানীতিতে এ ধরনের আইনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ থাকলেও পরবর্তী সরকারগুলো তা বাস্তবায়ন করেনি। মোদি সরকারই প্রথম এ ধরনের আইন প্রণয়ন করেছে বলে দাবি করা হয়।
সরকারের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে অনুষ্ঠিত ৫০টি পরীক্ষার মধ্যে ৪৯টি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছে এবং মাত্র একটি পরীক্ষায় অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে, সিজেপির সঙ্গে সরকারের আলোচনা এখনো অমীমাংসিত রয়েছে। আজ শুক্রবার ভিঠালভাই প্যাটেল হাউসে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টার বৈঠকে সিজেপির প্রতিনিধিরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি থেকে তারা সরে আসবেন না।
সংগঠনটি গত ২০ জুলাইয়ের ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিতে বিক্ষোভকারীদের প্রতি পুলিশের আচরণের জন্য কেন্দ্র সরকার, র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (র্যাফ) এবং দিল্লি পুলিশের কমিশনারের প্রকাশ্য ক্ষমাও দাবি করেছে।
সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, সংগঠনটি ৩ মে অনুষ্ঠিতব্য নিট-ইউজি ২০২৬ পরীক্ষা বাতিলের প্রতিবাদে আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ, গত ২০ জুলাইয়ের ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দায়ের করা সব এফআইআর প্রত্যাহার এবং শিক্ষা সংস্কারবিষয়ক পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে।
সরকারের কাছে জমা দেওয়া এক চিঠিতে সিজেপি জানিয়েছে, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, আত্মহত্যাকারী নিট পরীক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া আইনি ব্যবস্থা প্রত্যাহারের দাবিগুলো তাদের কাছে আলোচনাসাপেক্ষ নয়।
সংগঠনটির দাবি, সারা দেশের সমর্থক ও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
চিঠিতে আরও সতর্ক করে বলা হয়েছে, দাবিগুলো মেনে নেওয়া না হলে আন্দোলন আরও তীব্র করা হবে এবং তা দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
বৈঠক শেষে জে.পি. নাড্ডা বলেন, সরকার সিজেপির দাবিগুলো শুনেছে এবং সেগুলো বিবেচনার পর আনুষ্ঠানিক জবাব দেবে। তিনি জানান, শনিবার দুই পক্ষের মধ্যে আবারও বৈঠক হবে।
আজ শুক্রবারের বৈঠকটি ছিল সরকার ও আন্দোলনকারী সংগঠনটির মধ্যে তৃতীয় দফার আনুষ্ঠানিক আলোচনা।
সূত্র : দ্য প্রিন্ট

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন