× UCB Sticker Card
শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

সাইফ উদ্দিন বাবলু

প্রকাশিত: জুলাই ২৪, ২০২৬, ১০:০৮ পিএম

এমপি হতে চেয়ে রাষ্ট্রপতি

সাইফ উদ্দিন বাবলু

প্রকাশিত: জুলাই ২৪, ২০২৬, ১০:০৮ পিএম

ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ছিলেন বিচারপতি। অবসর নেওয়ার পর হন আওয়ামী লীগ কর্তৃক গঠিত বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশনের চেয়ারম্যান। এরপর নিয়োগ পান দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) কমিশনার হিসেবে। দীর্ঘ পাঁচ বছর কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে চেষ্টা করেন আওয়ামী লীগের টিকিটে সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হতে। ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী হতে দৌড়ঝাঁপও করেছিলেন। সে সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে একাধিকবার দেখা করে সেই ইচ্ছার কথা জানিয়েছেনও তিনি। কিন্তু তাকে নিয়ে হাসিনার ছিল অন্য ভাবনা। এমপি নয়, তাকে শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত করেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী হাসিনা।

২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি তিন বছরে তিনটি সরকারের আমলেই ছিলেন রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে। এই সময়ে তাকে নিয়ে জন্ম হয় নানা আলোচনা-সমালোচনা। একই সঙ্গে তার পদত্যাগ নিয়ে চলতে থাকে জল্পনা-কল্পনা। অবশেষে সব আলোচনা ও জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে গতকাল শুক্রবার শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। অবশ্য তার এই পদত্যাগ নিয়ে গুঞ্জন রয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, দুদকে মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পর তার ইচ্ছা ছিল দুদকেরই চেয়ারম্যান হওয়ার। কিন্তু নানা কারণে তার সেই খায়েস পূর্ণ হয়নি। পরে ২০১৬ সালে নিজ এলাকায় রাজনীতিতে সক্রিয় হন তিনি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আস্থাভাজন হওয়ায় তিনি চেয়েছিলেন ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন নিয়ে নিজ এলাকা থেকে এমপি পদে নির্বাচন করবেন। কিন্তু সে বছর মনোনয়ন না পেলেও ২০২৪ সালের নির্বাচনে মনোনয়ন পেতে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেন। সেসময় তিনি শেখ হাসিনার পা ছুঁয়ে সালাম করতে গেলে প্রধানমন্ত্রী সরে যান। এরপরই তার ভাগ্য খুলে যায়। মূলত শেখ হাসিনার আস্থাভাজন হওয়ায় রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময় দলীয়ভাবে তার জন্য মনোনয়ন কেনা হয় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত ইচ্ছাতে।

সূত্র জানায়, ২০১১ সালে দুদকের কমিশনার হিসেবে ৫ বছরের জন্য নিয়োগ পাওয়ার পর দুর্নীতি দমন কমিশনে প্রভাবশালী কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন মো. সাহাবুদ্দিন। তখন চেয়ারম্যান ছিলেন গোলাম রহমান। গোলাম রহমানকে ২০০৯ সালের ২৯ এপ্রিল দুদক চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলে ২ মে তিনি যোগদান করেন। চার বছরের জন্য নিয়োগ পাওয়া গোলাম রহমানের মেয়াদ পূর্ণ হলে তার চেয়ারম্যান পদে থাকা নিয়ে রিট হয় উচ্চ আদালতে। পরে তিনি চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরে গেলে বদিউজ্জামান দুদকের চেয়ারম্যান হন। বদিউজ্জামানকে নিয়োগ দেওয়ার আগে চেয়ারম্যান হওয়ার জন্য চেষ্টা করেছিলেন সাহাবুদ্দিন। সূত্র জানিয়েছে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে গোলাম রহমানের কঠোর পদক্ষেপ নিতে থাকলে চেয়ারম্যানের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয় কমিশনার সাহাবুদ্দিনের। দুদকে তিনি নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশনকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে থাকেন। জরুরি সরকারের সময়ে আওয়ামী লীগ  ও বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে একাধিক মামলা ছিল দুদকে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ২০১১ সালে কমিশনের কমিশনার হয়ে মো. সাহাবুদ্দিন এসব মামলার তদন্তে প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করেন। বিশেষ করে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মিগ-২০ বিমান কেনার দুর্নীতির মামলা থেকে তাকে দায়মুক্তি দেওয়া হয় ওই সময়ে। তবে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। ওই মামলায় পরে আওয়ামী লীগের সময়ে খালেদা জিয়াকে দণ্ডিত ঘোষণা করেন আদালত এবং খালেদা জিয়াকে কারাবরণ করতে হয়। বদিউজ্জামানের সময়ও প্রভাব ছিল সাহাবুদ্দিনের।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মো. সাহাবুদ্দিন দুদকের কমিশনার থাকাকালে দুর্নীতি দমন কমিশনে একচ্ছত্র প্রভাব ছিল তার। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকায় সরকারি দলের তৎকালীন এমপি-মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের কোনো অভিযোগ স্বাধীনভাবে অনুসন্ধান করতে পারত না কমিশন। কমিশনের বৈঠকে তিনি প্রায় বিভিন্ন অনুসন্ধান বা মামলায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতেন। এমনকি সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও দুর্নীতি ও অনিয়মের অনুসন্ধান বা মামলার ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করতেন। দুদকে থাকাকালে তার বিরুদ্ধে শীর্ষ দুর্নীতিবাজদের পক্ষ নিয়ে কাজ করারও অভিযোগ ওঠে। এমনকি মোটা অঙ্কের ঘুষ নেওয়ারও অজস্র অভিযোগ ছিল। মূলত এসব অভিযোগ আর নানা বিতর্কের মধ্যেই দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হন মো. সাহাবুদ্দিন।

সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির সময়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের গুম-খুন এবং সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ তুলে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করেন। ওই কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় মো. সাহাবুদ্দিনকে। তিনি ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জনগোষ্ঠীর ওপর হামলা, হত্যা, ধর্ষণ ও লুণ্ঠনের ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন তৈরিতে বড় ভূমিকা পালন করেন। তার দেওয়া ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার কারণ ও সুপারিশ প্রণয়নের জন্য প্রতিবেদন সরকার গেজেট আকারে প্রকাশ করে। তিনি মুজিব হত্যা মামলায় আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিযুক্ত সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে মো. সাহাবুদ্দিন তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাসহ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ডেস্ক অফিসার হিসেবে দুই বছর দায়িত্ব পালন করেন।

দুদকের একাধিক কর্মকর্তা জানান, মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে দুদকে ৫ বছর কমিশনার হিসেবে কাজ করেছেন। তার সময়ে দুর্নীতি দমন কমিশন নিজেই দুর্নীতির প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে অনেক দুর্নীতিবাজের রক্ষাকবচ হয়ে কাজ করতেন সাহাবুদ্দিন। দুর্নীতি বন্ধে বেশকিছু পদক্ষেপ নিতে চেয়েছিলেন তৎকালীন দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান। কিন্তু তাকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতেন না সাহাবুদ্দিন। তার এমন কর্মকাণ্ডের কারণেই গোলাম রহমান প্রকাশ্য এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে দুদককে ‘নখদন্তহীন বাঘ’ বলে আখ্যা দেন। গোলাম রহমানের এমন বক্তব্যে ক্ষিপ্ত হন সাহাবুদ্দিন। কমিশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গে তার বিরোধও তৈরি হয়। পরে ২০১৬ সালে মো. সাহাবুদ্দিনের দুদক থেকে বিদায় নেন।

এরপর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে পুরোপুরি সক্রিয় হন মো. সাহাবুদ্দিন। আওয়ামী লীগের সর্বশেষ ২২তম জাতীয় পরিষদে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমামের মৃত্যুতে খালি থাকা প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটির চেয়ারম্যান পদও পান সাহাবুদ্দিন। চাকরি জীবন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপতি থাকাকালেও আওয়ামী লীগের আদর্শিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন সদ্য পদত্যাগ করা রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করেন ছাত্র-জনতা। তখন সাংবিধানিক কারণে তার পদত্যাগের পক্ষে ছিল না বর্তমান রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা বিএনপি। এরপর তিনি একটি গণমাধ্যমে বিতর্কিত সাক্ষাৎকার দিয়ে আলোচনায় আসেন। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তাকে কোনো রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দেওয়া হতো না। তবে এসব অভিযোগের অধিকাংশ কাল্পনিক ছিল বলে জানা গেছে।

মো. সাহাবুদ্দিনই একমাত্র রাষ্ট্রপতি, যার অধীনে তিনটি সরকার ছিল। ২০২৩ সালে রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। সাত মাসের মাথায় আওয়ামী লীগ সরকার ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকারকে শপথ পড়ান তিনি। প্রায় দুই বছর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দায়িত্ব পালন শেষে ২০২৬ সালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় এসে সরকার গঠন করে। অনেকের ধারণা ছিল তিনি ৫ বছর পূর্ণ করবেন। কিন্তু তার আগেই তিনি পদত্যাগ করলেন। 

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!