ঢাকা শুক্রবার, ০৩ জুলাই, ২০২৬

বাবার জানাজায় কেন থাকবেন না মোজতবা খামেনি?

বিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশিত: জুলাই ৩, ২০২৬, ০২:১৬ এএম
ছবি : সংগৃহীত

নিরাপত্তাজনিত কারণে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন না তার ছেলে ও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। ভারতে নিযুক্ত ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আয়াতুল্লাহ হাকিম এলাহি বলেন, ইরানের শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে ইসরায়েলের অব্যাহত হুমকির কারণেই মোজতবা খামেনি জানাজায় উপস্থিত থাকতে পারবেন না।

তিনি জানান, সম্প্রতি ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ খামেনিকে লক্ষ্য করে কঠোর হুমকি দিয়েছেন। এর জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সতর্ক করে বলেছেন, ভবিষ্যতে এই ধরনের হুমকির জবাব ‘শক্তিশালী প্রতিক্রিয়ার’ মাধ্যমে দেওয়া হবে।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবের নেতা খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার প্রথম দিন নিহত হন। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে তার রাষ্ট্রীয় দাফনানুষ্ঠান কয়েক দফা পিছিয়ে দেওয়া হয়। ইরান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহে খামেনির আনুষ্ঠানিক জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। খামেনির জানাজা ও দাফনকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন জনসমাগমের প্রস্তুতি চলছে।

ইরানি কর্তৃপক্ষের ধারণা, রাজধানী তেহরানে প্রায় ২ কোটি এবং দেশজুড়ে মোট সাড়ে ৩ কোটি মানুষ এই আয়োজনে অংশ নিতে পারেন। এ ছাড়া ৯০টির বেশি দেশের প্রতিনিধি ও প্রায় ১৪ হাজার সাংবাদিক উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এই হিসাব বাস্তব হলে ১৯৮৯ সালে ইরানের ইসলামি বিপ্লবের সাবেক নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় অংশ নেওয়া আনুমানিক ১ কোটি ২ লাখ মানুষের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে।

ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম পার্সটুডে লিখেছে, খামেনির স্মরণে গঠিত কেন্দ্রীয় কমিটি ইরানজুড়ে ও ইরাকে ছয় দিনের জানাজা ও শোক অনুষ্ঠানের সময়সূচি ঘোষণা করেছে। আগামী ৪ ও ৫ জুলাই ইমাম খোমেনি মোসাল্লায় শেষ বিদায় অনুষ্ঠান হবে, এর মধ্যে প্রথম দিন জানাজা কর্মসূচি রয়েছে।

৬ জুলাই তেহরানে প্রধান শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। এই সময় খামেনির মরদেহের পাশাপাশি তার জামাতা, কন্যা, পুত্রবধূ (বর্তমান সর্বোচ্চ নেতার স্ত্রী) ও নাতনির মরদেহ বহন করা হবে। পরদিন কোম শহরে অনুষ্ঠিত হবে জানাজা সমাবেশ। এরপর ৮ জুলাই খামেনির মরদেহ নেওয়া হবে ইরাকে। সেখানে নাজাফ ও কারবালা শহরে শোকযাত্রা ও জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরদিন ইরানের মাশহাদে হযরত ইমাম রেজা (আ.)–এর মাজারে খামেনির মরদেহ দাফন করা হবে।