শীতকালীন ঝড় ‘ডেভিন’-এর প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এক দিনে ১ হাজার ৮০২টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। অন্যদিকে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বিলম্বে যাত্রা করেছে আরও ২২ হাজারের বেশি ফ্লাইট।
এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
প্রতিবেদনে রয়টার্স জানিয়েছে, শীতকালীন ঝড় ‘ডেভিন’-এর কারণে বড়দিনের ছুটির ব্যস্ত সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে হাজারো ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্ব হয়েছে।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবারই বহু অঙ্গরাজ্যে তুষারঝড়ের আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং কিছু স্থানে আগেভাগেই সড়কপথে বাণিজ্যিক যান চলাচল সীমিত করা হয়েছে।
ওয়েবসাইটটি জানায়, শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৪ মিনিট পর্যন্ত ১ হাজার ৮০২টি ফ্লাইট বাতিল এবং ২২ হাজার ৩৪৯টি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস জানায়, ঝড় ডেভিন গ্রেট লেকস অঞ্চল থেকে শুরু করে উত্তর মিড-অ্যাটলান্টিক ও দক্ষিণ নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত বিপজ্জনক ভ্রমণ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। আর এর প্রভাব শুক্রবার থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত থাকতে পারে। ওয়েদার সার্ভিসের স্টর্ম প্রেডিকশন সেন্টার আরও জানায়, নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের উত্তরাংশ থেকে শুরু করে নিউইয়র্ক সিটি, লং আইল্যান্ডসহ তিনটি অঙ্গরাজ্য এলাকায় শুক্রবার গভীর রাত পর্যন্ত ৪-৮ ইঞ্চি তুষারপাতের আশঙ্কা রয়েছে।
নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি, নিউয়ার্ক লিবার্টি এবং লাগার্ডিয়া বিমানবন্দর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাত্রীদের ফ্লাইট বিলম্ব ও সম্ভাব্য বাতিলের বিষয়ে সতর্ক করেছে। ফ্লাইটঅ্যাওয়ার বলছে, বাতিল ও বিলম্বের অর্ধেকের বেশি ঘটনাই ঘটেছে এই তিনটি বিমানবন্দরে। এদিন সবচেয়ে বেশি ফ্লাইট বাতিল করেছে জেটব্লু—২২৫টি। কাছাকাছি অবস্থানে ছিল ডেল্টা এয়ারলাইনস; তাদের বাতিল করা ফ্লাইট ২১২টি।
অন্যদিকে রিপাবলিক এয়ারওয়েজ বাতিল করেছে ১৫৭টি, আমেরিকান এয়ারলাইনস ১৪৬টি এবং ইউনাইটেড এয়ারলাইনস ৯৭টি। আমেরিকান, ইউনাইটেড ও জেটব্লুর মুখপাত্ররা জানিয়েছেন, ঝড়ের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের টিকিট পরিবর্তনের ফি মওকুফ করা হয়েছে। জেটব্লুর মুখপাত্র বলেন, ‘শীতকালীন ঝড় ডেভিনের কারণে আজ ও আগামীকাল মিলিয়ে আমরা প্রায় ৩৫০টি ফ্লাইট বাতিল করেছি, যার বেশির ভাগই যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে।’
ডেল্টা ও রিপাবলিক এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোচুল বলেন, ‘নিউইয়র্ক সিটি ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক তুষারপাতের আশঙ্কা থাকায় আমি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করছি, যাতে আমাদের সংস্থাগুলো ও স্থানীয় অংশীদাররা প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সরঞ্জাম ব্যবহার করে পরিস্থিতি সামাল দিতে পারে।’


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন