× UCB Sticker Card
শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

মো. সায়েম ফারুকী

প্রকাশিত: জুলাই ১১, ২০২৬, ১০:৪০ পিএম

স্পেনের রাষ্ট্রদূত মাসুদ এখনো ভালো হননি, ক্ষুব্ধ প্রবাসীরা

মো. সায়েম ফারুকী

প্রকাশিত: জুলাই ১১, ২০২৬, ১০:৪০ পিএম

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ গ্রাফিক্স

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ গ্রাফিক্স

স্পেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাসুদুর রহমানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রবাসী সেবায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, প্রশাসনিক অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগ তুলে একটি গোপনীয় বিশেষ গোয়েন্দা প্রতিবেদন সরকারের উচ্চপর্যায়ে জমা পড়েছে।

প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, স্পেন সরকারের বিশেষ নিয়মিতকরণ কর্মসূচির সময় বাংলাদেশ সরকারের নেওয়া প্রবাসীবান্ধব উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে হাজারো বাংলাদেশি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহে জটিলতার মুখে পড়েন। প্রতিবেদনে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর কেন্দ্রে রয়েছেন রাষ্ট্রদূত মাসুদুর রহমান, দূতাবাসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (হিসাব) ইসমত আরা বেগম এবং তার স্বামী জাফর ইকবাল।

এ ছাড়া গুরুতর আরও দুটি অভিযোগ হচ্ছে- রাষ্ট্রদূতের মেয়ের নামে বাংলাদেশের পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট তৈরি করা হয়েছে, যা বর্তমানে স্পেনে বৈধ হওয়ার অন্যতম প্রধান শর্ত। নথিতে দেখা গেছে, রাষ্ট্রদূতের মেয়ে নিহন আনান রহমানের নামে ৩ জুন ২০২৬ সালে বাংলাদেশ থেকে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স নেওয়া হয়। অথচ তার স্পেনের রেসিডেন্ট কার্ডে মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ দেওয়া আছে ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৭। এদিকে রাষ্ট্রদূতের স্ত্রী দিলমাত আরা মাসুদের পছন্দ না হওয়ায় দীর্ঘদিনের বাংলাদেশ হাউস ছেড়ে অন্যত্র অধিক খরচে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকার অভিযোগও আছে বর্তমান রাষ্ট্রদূতের বিরুদ্ধে।

এই গোয়েন্দা প্রতিবেদনের পাশাপাশি স্পেনপ্রবাসী বাংলাদেশিদের পক্ষ থেকেও পৃথকভাবে রাষ্ট্রদূতের বিরুদ্ধে তদন্ত দাবি করে সরকারের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। ফলে বিষয়টি শুধু প্রশাসনিক মহলেই নয়, প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ক্ষুদ্ধ প্রবাসী বাংলাদেশিরা রাষ্ট্রদূত মাসুদের বিচার ও অপসারণ দাবি করেন। তারা হলেন, বাংলাদেশের সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সেই বিখ্যাত মাসুদের মত স্পেনের রাষ্ট্রদূত মাসুদুর রহমানও এখনো ভালো হতে পারেননি।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, স্পেনে প্রায় ১৭ বছর পর ঘোষিত বিশেষ নিয়মিতকরণ কর্মসূচির আওতায় ১৭ থেকে ২০ হাজার বাংলাদেশির বৈধ হওয়ার সুযোগ তৈরি হলেও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সংগ্রহ, কনস্যুলার সমন্বয় এবং বিশেষ সহায়ক দল পাঠানোর ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব সৃষ্টি করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব কারণে বহু আবেদনকারী সময়মতো প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করতে পারেননি এবং সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগের সুফল পুরোপুরি পাওয়া যায়নি।

প্রতিবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, অনলাইন আবেদন ব্যবস্থাকে যথাযথভাবে উৎসাহিত না করে অনেক আবেদনকারীকে ব্যয়বহুল অফলাইন প্রক্রিয়ার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়। এর ফলে সরকার নির্ধারিত কম খরচের পরিবর্তে অনেককে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে কয়েক গুণ বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। এ ছাড়া কিছু কর্মকর্তা ও অননুমোদিত ব্যক্তির মাধ্যমে অবৈধ অর্থ আদায় এবং আবেদনকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহারের অভিযোগও সেখানে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো কোনো সরকারি তদন্তে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

অনুসন্ধানে পাওয়া সরকারি নথি থেকে জানা যায়, বাংলাদেশ সরকার স্পেনে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ও কনস্যুলার সেবা জোরদারে বিশেষ সহায়ক দল পাঠানোর উদ্যোগ নেয়। কিন্তু ২০২৬ সালের ১২ মার্চ রাষ্ট্রদূত মাসুদুর রহমান স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে ওই উদ্যোগ পুনর্বিবেচনার সুপারিশ করা হয়। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এই অবস্থানের কারণে বিশেষ দল পাঠাতে বিলম্ব হয়। পরে ৯ মে চার সদস্যের একটি দল স্পেনে গিয়ে ৯ থেকে ২০ মে পর্যন্ত সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করে এবং সরকারি হিসাব অনুযায়ী ২ হাজার ২৪৯ জনকে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স-সংক্রান্ত সেবা দেয়।

প্রবাসীদের অভিযোগ, সহায়ক দলটি যদি কর্মসূচির শুরুতেই স্পেনে পৌঁছাত, তাহলে আরও বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি সময়মতো আবেদন সম্পন্ন করতে পারতেন। তাদের মতে, প্রশাসনিক বিলম্বের কারণে অনেক আবেদনকারী বৈধ হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হারানোর ঝুঁকিতে পড়েন।

জানা যায়, স্পেন সরকার ২০২৫ সালের ২৪ জানুয়ারি বিশেষ নিয়মিতকরণ কর্মসূচি ঘোষণা করে। আবেদনকারীদের জন্য বৈধ পাসপোর্ট, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স এবং নির্ধারিত সময় ধরে স্পেনে অবস্থানের প্রমাণ বাধ্যতামূলক ছিল। এই সুযোগ কাজে লাগাতে হাজারো বাংলাদেশি মাদ্রিদে বাংলাদেশ দূতাবাসে ভিড় করেন।

গত ২২ জুন ২০২৬ স্পেনপ্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি প্রতিনিধিদল সরকারের কাছে দেওয়া স্মারকলিপিতে রাষ্ট্রদূতের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রবাসী সেবায় অবহেলা, দুর্নীতি এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে। তাদের বক্তব্য, রাষ্ট্রদূতের ভূমিকা এবং দূতাবাসের সিদ্ধান্তের কারণে বহু আবেদনকারী আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে রাষ্ট্রদূত মাসুদুর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ এবং খুদেবার্তা পাঠানো হলেও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

গোয়েন্দা প্রতিবেদন এবং প্রবাসীদের অভিযোগ, উভয় ক্ষেত্রে এখন মূল প্রশ্ন একটাই- স্পেনে বিশেষ নিয়মিতকরণ কর্মসূচির সময় দূতাবাসের ভূমিকায় কি কেবল প্রশাসনিক সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল, নাকি অভিযোগ অনুযায়ী আরও গুরুতর কোনো অনিয়ম ঘটেছে? এর উত্তর মিলবে কেবল একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সরকারি তদন্তের মাধ্যমে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধতন কর্মকর্তা রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘প্রতিবেদনটি গোপনীয়। ফলে তার নাম বা পরিচয় প্রকাশ তিনি করতে চান না। তবে, মন্ত্রণালয় এই অভিযোগ এবং স্পেনপ্রবাসীদের দাবি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন এবং দ্রুতই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তথ্য ও নথি অনুযায়ী, দূতাবাসের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী না হওয়া সত্ত্বেও দূতাবাস কর্মকর্তা ইসমাত আরার স্বামী জাফর ইকবাল দীর্ঘদিন ধরে দূতাবাসে প্রভাব বিস্তার করেন। পরে রাষ্ট্রদূতের নির্দেশে ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর তাকে কনস্যুলার সহকারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়, যা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক বিধি অনুসরণ না করেই সম্পন্ন হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সেই নিয়োগের সুপারিশে সেকেন্ড সেক্রেটারি মোহাম্মদ ইরফান চৌধুরী ১৮ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে লিখেছেন, ‘দুই বছর ধরে দূতাবাসের নানা কাজে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করার কারণে তাকে কনস্যুলার এসিস্ট্যান্ট পদে নিয়োগ দেওয়া হোক।’ মূলত রাষ্ট্রদূত মাসুদুর রহমান, স্ত্রী, অফিস সহকর্মী ইসমাত আরা ও তার স্বামী জাফর ইকবালকে নিয়েই একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দূতাবাসের কর্মকর্তারা জানান। এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রবাসীদের কাছ থেকে নানা হয়রানি করে টাকা নেওয়ার অভিযোগ আছে। পুরো সিন্ডিকেট মাসুদুর রহমান ও তার স্ত্রী দুজনে মিলেই নিয়ন্ত্রণ করেন।

বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসি (বিডিবিএল) থেকে দূতাবাসে পাঠানো এক ই-মেইল কপিতে দেখা গেছে, দূতাবাস কর্মকর্তা ইসমত আরা বেগম ও তার স্বামী জাফর ইকবালের বিরুদ্ধে ২ কোটিরও বেশি টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। ব্যাংকের দাবি, বিষয়টি বর্তমানে বাংলাদেশের আদালতে বিচারাধীন এবং অর্থ পুনরুদ্ধারের স্বার্থে দূতাবাসের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

অনুসন্ধানে প্রাপ্ত নথি অনুযায়ী, ইসমত আরা বেগম দীর্ঘদিন ধরে স্পেনে বসবাস করছেন। একটি সরকারি গেজেট প্রকাশনায় তাকে স্পেনের নাগরিকত্ব প্রদানসংক্রান্ত তথ্যও উল্লেখ রয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সরকারি দপ্তরে পাঠানো বিভিন্ন চিঠিতে তার নাগরিকত্বের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

এদিকে একটি আইনি নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে, বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণের পরও তিনি বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করেছেন এবং সরকারি নথিতে তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রে অসংগতি রয়েছে। নোটিশে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

নথিপত্রে আরও দেখা যায়, বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্পেনে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং অন্যান্য সরকারি সংস্থার মধ্যে একাধিক দাপ্তরিক যোগাযোগ হয়েছে। কয়েকটি চিঠিতে তথ্য যাচাইয়ের জন্য দূতাবাসের মতামতও চাওয়া হয়েছে। দূতাবাসের পক্ষ থেকে পাঠানো জবাবেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাগরিকত্বের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, গত দেড় বছরে বাড়ির কাজের লোক পরিচয়ে তিনি তিনজনকে বাংলাদেশ থেকে স্পেনে নিয়ে যান। এদের মধ্যে আজিজ নামে একজন সেখান থেকে অন্যত্র পালিয়ে গেছেন। মামুন ও জুয়েল নামে বাকি দুজন এখনো স্পেনে আছেন। তাদের ক্লিনার ও মালির চাকরি দেওয়া হয়েছে। আইনত এদের বেতন দেওয়ার কথা মাসুদুর রহমানের নিজস্ব অর্থ থেকে। কিন্তু সেটা না করে প্রতিজনকে ১ হাজার ১৫০ ইউরো করে বেতন দেওয়া হচ্ছে দূতাবাসের ফান্ড বা তহবিল থেকে।

এ ছাড়া অনুসন্ধানে পাওয়া একজন আইনজীবীর বিস্তারিত নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে, সরকারি চাকরির সুযোগ-সুবিধা, কূটনৈতিক পরিচয় কিংবা প্রশাসনিক সুবিধা গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রকৃত তথ্য গোপন করা হয়ে থাকতে পারে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতের কোনো চূড়ান্ত রায় বা সরকারি তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য নথিতে পাওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, কোনো বাংলাদেশি নাগরিক বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ করলে সংশ্লিষ্ট দেশের আইন, বাংলাদেশের প্রচলিত আইন এবং দ্বৈত নাগরিকত্বের বিধান- সবকিছু বিবেচনায় রেখে বিষয়টি মূল্যায়ন করতে হয়। বিশেষ করে যদি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা তার পরিবারের সদস্য রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তাহলে তথ্য গোপন বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার অভিযোগে অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয় হয়ে ওঠে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, বিদেশে কর্মরত কূটনীতিকদের পরিবারের সদস্যদের পরিচয় ও নাগরিকত্ব সম্পর্কিত তথ্য যথাযথভাবে সরকারি নথিতে সংরক্ষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো অসংগতি থাকলে তা প্রশাসনিক ও আইনি উভয় দিক থেকেই তদন্তযোগ্য।

নথিতে দেখা যায়, বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্পেনে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একাধিকবার চিঠি চালাচালি হয়েছে। এসব চিঠিতে নাগরিকত্বের বিষয়টি যাচাইয়ের উদ্যোগের কথাও উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগকারী পক্ষ দাবি করেছে, সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য বা লিখিত ব্যাখ্যা নথিগুলোর সঙ্গে সংযুক্ত পাওয়া যায়নি।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশি নাগরিকত্ব, পাসপোর্ট ব্যবহার কিংবা সরকারি ঘোষণায় তথ্য গোপনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী প্রশাসনিক কিংবা আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে অভিযোগমাত্রই অপরাধ প্রমাণ করে না; নিরপেক্ষ তদন্ত ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই বিষয়টির নিষ্পত্তি হওয়া উচিত।

এ বিষয়ে ইসমত আরা বেগম অথবা তার স্বামী জাফরের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও এই প্রতিবেদন প্রস্তুত হওয়া পর্যন্ত তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সরকারি নথি, দূতাবাসের চিঠিপত্র, আইনি নোটিশ এবং বিদেশি সরকারি গেজেট- সব মিলিয়ে বিষয়টি এখন শুধু ব্যক্তিগত পরিচয়ের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। এটি সরকারি তথ্যের যথার্থতা, নাগরিকত্বের আইনগত অবস্থান এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের পরিবারের তথ্য যাচাইয়ের বিষয়টিকেও সামনে নিয়ে এসেছে।

এখন প্রশ্ন একটাই, নথিতে উত্থাপিত এসব অভিযোগ ও অসংগতি কি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত করবে, নাকি বিষয়টি কেবল কাগজপত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে?

Link copied!