× UCB Sticker Card
শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার

প্রকাশিত: জুলাই ১১, ২০২৬, ১০:০৭ পিএম

কক্সবাজারে ৭ দিনে প্রাণহানি ২৭, পানিবন্দি ৬ লাখ মানুষ

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার

প্রকাশিত: জুলাই ১১, ২০২৬, ১০:০৭ পিএম

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি কক্সবাজারে ভয়াবহ মানবিক সংকট সৃষ্টি করেছে। জেলার ১০টি উপজেলার ৫০টি ইউনিয়নের অন্তত ২৫০টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে প্রায় ছয় লাখ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। গত সাত দিনে পানিতে ডুবে, নৌকাডুবি ও পাহাড়ধসে অন্তত ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চকরিয়া, পেকুয়া, মাতামুহুরী, রামু ও ঈদগাঁও উপজেলা। এ ছাড়া চকরিয়া, পেকুয়া, মাতামুহুরী, কক্সবাজার সদর, রামু, ঈদগাঁও, উখিয়া, টেকনাফ, মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও বন্যার পানিতে তলিয়ে রয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে শনিবার (১১ জুলাই) বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন জেলা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা। জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান পেকুয়া উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণ ও ওষুধসামগ্রী বিতরণ করেন। একই দিন কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু-ঈদগাঁও) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ লুৎফুর রহমান কাজল তিন উপজেলার বিভিন্ন দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করে খাদ্যসামগ্রী, বিশুদ্ধ পানি ও জরুরি মানবিক সহায়তা বিতরণ করেন।

শনিবার জেলা প্রশাসক পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাংলাপাড়া গ্রামে গিয়ে পানিবন্দি মানুষের খোঁজখবর নেন এবং তাদের হাতে ত্রাণ ও প্রয়োজনীয় ওষুধ তুলে দেন। এ সময় পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে, সংসদ সদস্য আলহাজ লুৎফুর রহমান কাজল শনিবার সকাল থেকে রামুর মিঠাছড়ি ও রাজারকুল, ঈদগাঁওয়ের বংকিম বাজার, মাইচপাড়া ও ঈদগাঁও বাজার এবং সদর উপজেলার চৌফলদণ্ডীসহ বিভিন্ন বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেন। নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলো ঘুরে দেখে তিনি দুর্গত পরিবারগুলোর হাতে খাদ্যসামগ্রী, বিশুদ্ধ পানি ও জরুরি ত্রাণসামগ্রী তুলে দেন। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন।

এদিকে মৃত্যুর মিছিলও থামছে না। সর্বশেষ শনিবার দুপুরে ঈদগাঁওয়ের গজালিয়া এলাকা থেকে চার দিন আগে ঢলের পানিতে ভেসে নিখোঁজ হওয়া শিশু সাজেদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার দুপুরে চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নে বসতবাড়ি প্লাবিত হওয়ায় নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার পথে নৌকাডুবিতে হাসনাতুল জান্নাত ঝর্ণা (১২) নামে এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হয়। তার দুই বোনকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নে বন্যার পানিতে ডুবে মারা যায় দুই বছরের শিশু মোহাম্মদ ওয়াকিম। একই দিন নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নে বন্যার স্রোতে ভেসে গিয়ে প্রাণ হারায় তিন বছরের শিশু পুষ্প। এছাড়া চকরিয়ার মছনিয়াকাটা এলাকায় পাহাড়ধসে বসতঘর চাপা পড়ে একই পরিবারের দুই শিশুর মৃত্যু হয়। কক্সবাজার সদর, পেকুয়া এবং উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরেও পাহাড়ধস ও বন্যাজনিত বিভিন্ন ঘটনায় ১৫ জন রোহিঙ্গাসহ আরও ২১ জনের প্রাণহানি ঘটে।

জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, বন্যার কারণে বহু সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। হাজারো পরিবার আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছে এবং অনেক এলাকায় এখনও বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট রয়েছে। প্রশাসন, কোস্ট গার্ড, ফায়ার সার্ভিস ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ এখনো কাটেনি।

স্থানীয়দের দাবি, জরুরি ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করে দ্রুত পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু না হলে বন্যা-পরবর্তী মানবিক সংকট আরও গভীর হবে।

Link copied!