২০২১ সালের মাদক মামলায় র্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার ও কারাবাসের ঘটনা নিয়ে দীর্ঘদিন পর মুখ খুলেছেন চিত্রনায়িকা পরীমণি। ওই ঘটনাকে ‘অন্যায় ও বেআইনি’ দাবি করে তিনি বলেছেন, গ্রেপ্তার, মামলা ও কারাবাসের কারণে তার জীবন, সম্মান ও মানসিক শান্তির যে ক্ষতি হয়েছে, তা আর ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়।
শুক্রবার (১০ জুলাই) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে রাষ্ট্রের কাছে জবাবদিহিতাও দাবি করেন তিনি।
পরীমণি অভিযোগ করেন, তাকে ‘সম্পূর্ণ বেআইনি ও বিশেষ মহলের স্বার্থে’ গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে দীর্ঘ সময় কারাগারে রাখা হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
তার ভাষ্য, ওই সময়ের অভিজ্ঞতা তার জীবনকে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, যার কষ্ট তিনি ছাড়া আর কেউ পুরোপুরি বুঝতে পারবে না।
নিজের পোস্টের শুরুতে র্যাবের সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল খাইরুল ইসলামকে ধন্যবাদ জানান পরীমণি।
তিনি দাবি করেন, সম্প্রতি একটি অনলাইন টক শোতে খাইরুল ইসলাম এমন কিছু তথ্য প্রকাশ করেছেন, যার মাধ্যমে বনানীর বাসায় অভিযানের পর তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে।
পরীমণি প্রশ্ন তোলেন, হারানো দিন, সম্মান ও মানসিক শান্তি কি কখনো ফিরে পাওয়া সম্ভব?
তার অভিযোগ, ঘটনার পর মানুষের মধ্যে তাকে নিয়ে যে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর ধারণা তৈরি হয়েছে, তার দায় রাষ্ট্র নেবে কি না—সে বিষয়ে তিনি জবাব চান।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তারের দিন থেকে তিনি ওই ঘটনার একজন ভুক্তভোগী হিসেবে জীবন কাটাচ্ছেন। একজন নারী শিল্পীর জীবনকে রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাহিনী ব্যবহার করে যেভাবে বিপর্যস্ত করা হয়েছে, ভবিষ্যতে যেন আর কেউ এমন পরিস্থিতির শিকার না হন—এটাই তার প্রত্যাশা।
পরীমণি জানান, তিনি কারো বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে চান না; বরং সত্য, ন্যায়বিচার ও মানবিকতার পক্ষে কথা বলতে চান।
তার দাবি, তিনি কখনো বিতর্কিত পরিচয়ে নয়, একজন শিল্পী হিসেবে মানুষের ভালোবাসা নিয়েই বাঁচতে চেয়েছেন।
কঠিন সময়ে পাশে থাকা পরিবার, সহকর্মী, বন্ধু, সাংবাদিক ও ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে পরীমনি বলেন, তাদের ভালোবাসা ও সমর্থন তাকে ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অতীতের ক্ষত বয়ে না নিয়ে নিজের কাজ, সন্তান, পরিবার ও দর্শকদের ভালোবাসা নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চান।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ৪ আগস্ট রাজধানীর বনানীতে পরীমণির বাসায় অভিযান চালায় র্যাব। এরপর মাদক মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতের নির্দেশে কয়েক দফা রিমান্ড শেষে ১৩ আগস্ট তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে ৩১ আগস্ট জামিন পেয়ে ১ সেপ্টেম্বর তিনি কারামুক্ত হন।
একই বছরের ৪ অক্টোবর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন