শুক্রবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৫

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


রূপালী ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৯, ২০২৫, ০৭:৫৪ এএম

২ মাস ক্লাস করে বছরজুড়ে ছুটি কাটান শিক্ষিকা

রূপালী ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৯, ২০২৫, ০৭:৫৪ এএম

শিক্ষিকা

শিক্ষিকা

 

 

কচুয়া (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

বাগেরহাটের কচুয়ায় ৫ নম্বর গজালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা জুলেখা বিলকিস গত এক বছরে মাত্র ৬২ দিন ক্লাসে উপস্থিত ছিলেন। বাকি ১০ মাস নিয়মবহির্ভূতভাবে ছুটি কাটাচ্ছেন। এতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সহকারী শিক্ষিকা পদে জুলেখা বিলকিস ২০০৪ সালে ৪ নম্বর বিষেরখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় যোগদান করেন। পরে ফকিরহাট এরপর ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ৩ তারিখ তিনি গজালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি পরবর্তী যোগদান করেন। প্রথমদিকে তিনি নিয়মিত ক্লাস করলেও অদৃশ্য শক্তি বলে ২০২৪ সালের দিকে শারীরিক অসুস্থতাসহ নানা তালবাহানায় নিয়মবহির্ভূতভাবে বিনা অনুমতিতে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন। বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতা অনুযায়ী এর সত্যতা পাওয়া গেছে।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, শিক্ষিকার পাঠদান কৌশল ভালো হলেও তিনি নিয়মিত ক্লাসে আসেন না। আসলেও তাড়াতাড়ি ক্লাস শেষ করে বা ক্লাস না নিয়ে চলে যান। এ কারণে তাদের পড়াশোনায় ক্ষতি হচ্ছে।

অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষিকার এই ধরনের আচরণের কারণে শিক্ষার্থীরা পাঠদানে পিছিয়ে পড়ছে। তারা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

সহকারী শিক্ষক মো. আব্দুস সত্তার বলেন, কচুয়া উপজেলার মধ্যে এটি একটি ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ। এখানে প্রাক-প্রাথমিকসহ মোট ৬টি ক্লাস রয়েছে। প্রতিটি ক্লাসে আলাদা শাখা রয়েছে। ৩৬৫ জন শিক্ষার্থীর পাঠদানের জন্য একজন শিক্ষকের নিয়মিত অনুপস্থিতির কারণে বিশেষ করে ওই শিক্ষকের অনুপস্থিতির কারণে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং অতিরিক্ত ক্লাস নিতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শহীদুর রহমান জানান, বিষয়টি তার নজরে আছে। কোনো ধরনের লিখিত ছুটি ছাড়াই তিনি (জুলেখা বিলকিস) দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত আছেন। একাধিকবার তাকে এ ব্যাপারে সচেতন করা হয়েছে। কিন্তু তিনি কোনো কথার তোয়াক্কা না করে মাঝে মাঝে দুএক সময় মেডিকেল সনদ জমা দিয়ে দিনের পর দিন ছুটি কাটিয়ে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। বর্তমানে দুমাস ধরে তার বেতন বন্ধ রয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষিকা জুলেখা বিলকিস বলেন, আমি ৩-৪ বছর ধরে অসুস্থ আছি। নানা উপসর্গ নিয়ে আমি বাগেরহাট, খুলনাসহ বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসার জন্য দৌড়াদৌড়ি করছি। লিখিত কোনো ছুটি আমি নেইনিÑ এটা আমি অপরাধ করেছি। কয়েকবার টিও এবং এটিওর কাছে গিয়েছিলাম কিন্তু দেখা পাইনি। দুমাস ধরে আমার বেতন বন্ধ রয়েছে, এ কারণে ধার-দেনা করে চলছি। তবে চাকরিটা আমার দরকার।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মির্জা মিজানুল আলম বলেন, আমি ২ মাস তার বেতন বন্ধ রেখেছি। পূর্বে কীভাবে ছুটি নিয়েছেন এ বিষয় আমি বলতে পারব না। তবে আমার সময় উনি স্কুলে যান না। চিঠি দিয়ে তিনবার কারণ দর্শানোর পরে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আছে। তিনি বর্তমানে অনুমতি ছাড়া অনুপস্থিত আছেন। পুনরায় চাকরিতে ফিরতে চাইলে অ-অনুমোদিত ছুটি কাটানোর সময়টা উনি কোথায় ছিলেন এটি নিষ্পত্তি করে তারপর চাকরিতে যোগদান করতে হবে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!