শুক্রবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৫

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


ভিনদেশ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৯, ২০২৫, ০৮:৪৯ এএম

চীনের সামরিক কুচকাওয়াজ এক ছাতার নিচে ৩ পরাশক্তি

ভিনদেশ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৯, ২০২৫, ০৮:৪৯ এএম

এক ছাতার নিচে ৩ পরাশক্তি

এক ছাতার নিচে ৩ পরাশক্তি

বিশ্ব রাজনীতির অঙ্গনে নতুন করে তৈরি হচ্ছে এক অদ্ভুত সমীকরণ। অত্যন্ত সাজানো-গোছানো এক কুচকাওয়াজে তিয়েনআনমেন স্কয়ারের মধ্য দিয়ে সুশৃঙ্খলভাবে অগ্রসর হবেন কয়েক হাজার সেনা। চীনের সেনাবাহিনীর ৪৫টি ইউনিটের সদস্যসহ সাবেক সেনারাও এতে অংশ নেবেন। প্রায় ৭০ মিনিটব্যাপী এ কুচকাওয়াজ তত্ত্বাবধান করবেন প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং। পশ্চিমা বিশ্ব ও সামরিক বিশ্লেষকদের চোখ থাকবে এই অনুষ্ঠানের দিকে।

অত্যন্ত সাজানো-গোছানো এ কুচকাওয়াজে তিয়েনআনমেন স্কয়ারের মধ্য দিয়ে সুশৃঙ্খলভাবে অগ্রসর হবেন কয়েক হাজার সেনা। চীনের সেনাবাহিনীর ৪৫টি ইউনিটের সদস্যসহ সাবেক সেনারাও এতে অংশ নেবেন। প্রায় ৭০ মিনিটব্যাপী এ কুচকাওয়াজ তত্ত্বাবধান করবেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং। পশ্চিমা বিশ্ব ও সামরিক বিশ্লেষকদের চোখ থাকবে এ অনুষ্ঠানের দিকে।

আন্তর্জাতিক মঞ্চে যাদের নাম শুনলেই পশ্চিমা বিশ্ব বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বুকে কাঁপন ধরে, সেই তিন পরমাণু শক্তিধর দেশের নেতারা এবার এক ছাতার নিচে আসতে যাচ্ছেন। এরা হলেনÑ চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন।

বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের ‘ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বের’ প্রশংসা করে বলেছে, দুই দেশ আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য সহযোগিতা চালিয়ে যাবে।

চীন সফরে যাচ্ছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রাজধানী বেইজিংয়ে আগামী ৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য একটি সামরিক কুচকাওয়াজে উপস্থিত থাকবেন এই শীর্ষ নেতারা। সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, চীন-জাপান যুদ্ধ এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির ৮০তম বার্ষিকী উপলক্ষে ‘বিজয় দিবস’ কুচকাওয়াজের আয়োজন করা হয়েছে। এ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে বিশ্বের ২৬ রাষ্ট্রপ্রধানের। তবে পশ্চিমা বিশ্বের অধিকাংশ নেতাই অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন না।

কুচকাওয়াজের আয়োজনে প্রথমবারের মতো চীনা সামরিক বাহিনীর নতুন কাঠামো পুরোপুরি তুলে ধরা হবে। এর মধ্যে থাকছে শত শত যুদ্ধবিমান, ট্যাঙ্ক এবং ড্রোনরোধী প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। দীর্ঘদিন ধরেই এই তিন দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান থাকলেও পশ্চিমাদের ওপর ক্ষোভ ও স্বার্থের কারণে এবার তারা একসঙ্গে শক্তি প্রদর্শনে নামছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, তাদের আসন্ন বৈঠক কেবল প্রতীকী সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, বরং বিশ্ব রাজনীতির পালাবদলের ইঙ্গিত বহন করছে।

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন আগামী সপ্তাহে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠেয় একটি সামরিক কুচকাওয়াজে অংশ নেবেন বলে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, বৈশ্বিক নেতাদের সঙ্গে একক মঞ্চে এটি হবে তাঁর প্রথম কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠক।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এ কুচকাওয়াজে ২৬ জন বিদেশি রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান অংশ নেবেন। তবে পশ্চিমা দেশগুলোর কোনো নেতা আমন্ত্রণ পাননি। কেবল স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকোকে ডাকা হয়েছে। যিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রের একজন নেতা।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের তিয়েনআনমেন স্কয়ারে এক জাঁকজমকপূর্ণ সামরিক কুচকাওয়াজের আয়োজন করেছে। দিনটি ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ ১৯৪৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর জাপান টোকিওতে মিত্রবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। সেই স্মরণীয় দিনে নিজেদের আধুনিক সমরাস্ত্র ও সামরিক শক্তি প্রদর্শন করবে চীন।

এ আয়োজনে বিশেষ অতিথি থাকবেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন এবং উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যেই তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে। এখানেই শেষ নয়, চীনের মিত্র রাষ্ট্রগুলোর শীর্ষ নেতারাও যোগ দেবেন এই প্যারেডে। উপস্থিত থাকবেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো এবং ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ানতো। পশ্চিমা শিবিরে সামান্য ভিন্ন সুর আনার মতো করে অনুষ্ঠানে থাকবেন স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো, যিনি একমাত্র ইউরোপীয় নেতা হিসেবে যোগ দিচ্ছেন। পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির স্পিকার উ ওয়ান-শিকও থাকবেন অতিথিদের তালিকায়। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আয়োজন নিছক কোনো স্মারক দিবস নয়; বরং এর মধ্য দিয়ে চীন, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়া একত্রে বিশ্বকে নতুন বার্তা দিচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধ, তাইওয়ান ইস্যু এবং কোরীয় উপদ্বীপের উত্তেজনা মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা ব্লকের সঙ্গে তাদের বিরোধ এখন তুঙ্গে। ফলে এই তিন দেশের ঐক্য শুধু প্রতীকী নয়, বরং ভবিষ্যৎ বৈশ্বিক রাজনীতির শক্তির ভারসাম্য পাল্টে দিতে পারে।

এখনো স্পষ্ট নয় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই কুচকাওয়াজে যোগ দেবেন কি না। তবে তিনি উপস্থিত হলে তা হবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দূরত্ব ও চীনের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়ন ভারতের কূটনীতিকে নতুন মাত্রা দিতে পারে। সবমিলিয়ে বলা যায়, এক ছাতার নিচে তিন পরাশক্তির মিলন কেবল ইতিহাসের স্মৃতিচারণ নয়, বরং বিশ্ব রাজনীতির মোড় ঘোরানোর সম্ভাবনাময় সূচনা।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!