চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিসিআই) সভাপতি আমিরুল হক জানিয়েছেন, বাংলাদেশে পরিকল্পিত ফ্রি ট্রেড জোন (এফটিজেড) বা মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলগুলোতে একটি সহজীকৃত ‘এক পাতার লাইসেন্স’ ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করতে পারবেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা।
গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের সিসিসিআই কনফারেন্স হলে ইতালীয় টেক্সটাইল প্রযুক্তিবিষয়ক একটি কর্মশালা এবং বিজনেস-টু-বিজনেস (বিটুবি) বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আমিরুল হক বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সরকার এই সহজীকৃত লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া চালু করতে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা চট্টগ্রাম এবং মাতারবাড়ীর ফ্রি ট্রেড জোনগুলোতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ওয়ান পেইজ লাইসেন্স দেওয়ার পরিকল্পনা করছি। সরকার ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে রাজি হয়েছে। এই লাইসেন্স ব্যবহার করেই কোম্পানিগুলো নিবন্ধিত হতে ও তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।
অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন পিএইচপি ফ্যামিলির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মহসিন চৌধুরী, ইস্পাহানি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালমান ইস্পাহানি, প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ তানভীর, ইন্ডিপেন্ডেন্ট অ্যাপারেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু তৈয়ব ও বিজিএমইএর সাবেক সহসভাপতি এমএ সালাম।
সভাপতি আমিরুল হক জানিয়েছেন, এই উদ্যোগের ফলে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমবে। এতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশে ব্যাবসায়িক কার্যক্রম শুরু করা আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইতালির সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্কের কথা তুলে ধরে আমিরুল হক বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে ইতালিতে বার্ষিক প্রায় ২০০ কোটি ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি করে। এই রপ্তানি ৫০০ কোটি ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ইতালিতে আমাদের ২০০ কোটি ডলারের রপ্তানি রয়েছে, যা অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। আমরা আশা করছি, এটিকে ৫০০ কোটি ডলারে নিয়ে যেতে পারব।
সিসিসিআই সভাপতি বলেন, বাংলাদেশ ইতালীয় শিল্প প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণে আগ্রহী, বিশেষ করে টেক্সটাইল, সিরামিক ও মেশিনারি খাতে। ‘ইতালিয়ান মেশিনারি বিশ্বের অন্যতম সেরা; বিশেষ করে টেক্সটাইল, সিরামিক ও অন্যান্য শিল্প খাতের অ্যাপ্লিকেশনের জন্য। আমরা ফ্রি ট্রেড জোনগুলোতে বৃহত্তর সহযোগিতা এবং বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেছি।’
প্রস্তাবিত এই বিনিয়োগ রূপরেখা বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো বলেন, প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণ ও ইতালীয় কোম্পানিগুলোকে নতুন ব্যাবসায়িক সুযোগ অন্বেষণে উৎসাহিত করার মাধ্যমেÑ ইতালির লক্ষ্য বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও গভীর করা।
রাষ্ট্রদূত জানান, অ্যাসোসিয়েশন অব ইতালিয়ান টেক্সটাইল মেশিনারি ম্যানুফ্যাকচারার্স কর্তৃক ইতালিয়ান ট্রেড অ্যাজেন্সির অধীনে আয়োজিত ১১টি ইতালীয় টেক্সটাইল মেশিনারি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের একটি প্রতিনিধি দল তাদের সর্বশেষ প্রযুক্তি প্রদর্শন এবং স্থানীয় উৎপাদকদের সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে বাংলাদেশ সফর করেছে। তিনি বলেন, তারা তাদের সর্বশেষ প্রযুক্তি, উদ্ভাবনী সমাধান ও যন্ত্রপাতি প্রদর্শন করতে এবং বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিল্পের সঙ্গে নতুন সংযোগ স্থাপন করতে এসেছে। আজ আমরা অত্যন্ত ইতিবাচক সাড়া পেয়েছি।
প্রযুক্তি হস্তান্তর, বিনিয়োগ এবং বাণিজ্য সহযোগিতার সুযোগ অন্বেষণের লক্ষ্যে আয়োজিত এই কর্মশালায় শীর্ষস্থানীয় শিল্পপতি, ইতালীয় মেশিনারি প্রস্তুতকারক, টেক্সটাইল কোম্পানির প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশি ব্যবসায়ী নেতারা অংশ নেন।

