ঢাকা শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬

গ্যাস সংকটে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত

নরসিংদী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ১০, ২০২৬, ০৬:৫৫ এএম

গ্যাস সরবরাহে দীর্ঘস্থায়ী সংকটের কারণে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নির্ধারিত উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা। টানা ৪০ দিন উৎপাদন বন্ধ থাকায় লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৮৫ হাজার মেট্রিক টন কম ইউরিয়া সার উৎপাদন হয়েছে। কারখানা সূত্রে জানা গেছে, সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৮ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু গ্যাস সরবরাহ বিঘিœত হওয়ায় পুরো অর্থবছরে উৎপাদন হয়েছে ৭ লাখ ৬৪ হাজার ৫৩৫ মেট্রিক টন, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৮৫ হাজার ৪৬৫ মেট্রিক টন কম।

কারখানার মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. ফখরুল ইসলাম জানান, কারখানাটি পূর্ণ সক্ষমতায় চালাতে প্রতিদিন ৭২ এমএমসিএফডি (এমএমসিএফডি) গ্যাস প্রয়োজন হয়। কিন্তু গত ৪ মার্চ যুদ্ধজনিত পরিস্থিতির কারণে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। পরে ১ এপ্রিল গ্যাস সংযোগ পুনঃস্থাপন করা হলে ৬ এপ্রিল থেকে আংশিক এবং ৯ এপ্রিল থেকে পূর্ণমাত্রায় ইউরিয়া উৎপাদন শুরু হয়। ফলে টানা ৪০ দিন উৎপাদন বন্ধ থাকায় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হয়নি। তবে নতুন অর্থবছরে উৎপাদন ঘাটতি কাটিয়ে ওঠার পরিকল্পনা নিয়েছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের আশা, নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ এবং যন্ত্রপাতির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পাশাপাশি তা অতিক্রম করাও সম্ভব হবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের ইউরিয়া সারের চাহিদা পূরণ এবং আমদানিনির্ভরতা কমাতে ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে কারখানাটির পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

উল্লেখ্য, দৈনিক ১ হাজার টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন ঘোড়াশাল ইউরিয়া সার কারখানা এবং ৩০০ টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা একীভূত করে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক এই কারখানা নির্মাণ করা হয়। নতুন কারখানার দৈনিক উৎপাদনক্ষমতা ২ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন। ২০২৪ সালের ১১ মার্চ কারখানাটিতে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়।

কারখানা সূত্র আরও জানায়, প্রকল্প বাস্তবায়নে নেওয়া ঋণ পরিশোধে বছরে চারটি কিস্তি পরিশোধ করতে হচ্ছে, যার প্রতিটির পরিমাণ প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। উৎপাদন শুরুর পর এ পর্যন্ত ৯টি কিস্তি পরিশোধ করা হয়েছে। কারখানায় উৎপাদিত ইউরিয়া সার বিক্রির অর্থ থেকেই এসব ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা হচ্ছে।