বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল সাগরের কারণে টানা পাঁচ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল। এতে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হয়ে খাদ্যসামগ্রীসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে দ্বীপ ও টেকনাফে শতাধিক যাত্রী আটকা পড়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন ধরে বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নৌযান চলাচল বন্ধ রাখে। ফলে টেকনাফ থেকে খাদ্যপণ্য, সবজি, ফলমূল, পানীয়সহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সেন্টমার্টিনে পৌঁছাতে পারছে না। সরবরাহ কমে যাওয়ায় কিছু পণ্যের দামও বাড়তে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা।
নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াত করতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন শতাধিক যাত্রী। কেউ কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন না, আবার কেউ চিকিৎসা কিংবা পারিবারিক প্রয়োজনে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে ভোগান্তিতে পড়েছেন।
সেন্টমার্টিনের বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, টানা বৃষ্টি ও উত্তাল সাগরের কারণে দ্বীপের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জেলেরা সমুদ্রে মাছ ধরতে যেতে পারছেন না। অন্যদিকে টেকনাফ থেকে খাদ্যপণ্য না আসায় নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সংকট দিনে দিনে বাড়ছে। সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম জানান, দ্বীপের অধিকাংশ খাদ্যসামগ্রী টেকনাফ থেকে সরবরাহ করা হয়। টানা কয়েক দিন নৌযোগাযোগ বন্ধ থাকায় খাদ্যসংকট তৈরি হয়েছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বোট মালিক সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাগর বর্তমানে অত্যন্ত উত্তাল থাকায় যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ। আবহাওয়া অনুকূলে এলে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে নৌযান চলাচল পুনরায় শুরু করা হবে।
এদিকে ভারি বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা, বাহারছড়া, হোয়াইক্যং, সদর, সাবরাং ইউনিয়ন এবং পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা প্রস্তুত এবং পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলোকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

