পল্লবীর শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় আজ রোববার। ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করবেন। রায়ে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদ- প্রত্যাশা করেছেন রাষ্ট্রপক্ষ।
এদিকে রামিসা হত্যার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে এমন প্রত্যাশায় সময় গুনছেন দেশবাসী। রামিসার পরিবারও ঘাতকের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছে। রাষ্ট্রপক্ষও মনে করে আসামিদের সর্বোচ্চ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির রায় হবে।
রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা তার মেয়ের ঘাতকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। তিনি রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, এমন শাস্তি প্রত্যাশা করি, যা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে। ধর্ষিতা বা খ-িত লাশের বাবা হিসেবে পরিচিত হতে চাই না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমার মেয়েকে তো আর পাব না। তবে আর যেন কোনো নরপশু কোনো বাবা-মায়ের বুক খালি না করে।’
গত ১৯ মে দুপুরে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি-ব্লকের একটি ফ্ল্যাট থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তারের মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মামলার এজাহার ও তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওই দিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাসা থেকে বের হওয়ার পর কৌশলে রামিসাকে নিজেদের কক্ষে নিয়ে যায় সোহেল রানা ও স্ত্রী স্বপ্না আক্তার। কিছু সময় পর মেয়েটিকে খুঁজতে গিয়ে তার মা আসামিদের কক্ষের সামনে রামিসার স্যান্ডেল দেখতে পান। ডাকাডাকির পরও সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের নিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকলে খাটের নিচে পড়ে থাকতে দেখা যায় রামিসার মাথাবিহীন দেহ। আর বাথরুমের একটি বালতিতে পাওয়া যায় তার কাটা মাথা। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন স্বপ্না আক্তার। পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে স্বপ্না জানান, রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন সোহেল। এরপর লাশ গোপনের উদ্দেশ্যে মরদেহ খ-বিখ- করে তিনি পালিয়ে যান। ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্বপ্নাকে আটক করে পুলিশ। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় সোহেল রানাকে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান মাত্র পাঁচ দিনের তদন্ত শেষে গত ২৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করা হয়। ঈদের ছুটি শেষে আদালত খুললে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। অভিযোগ গঠনের পর এক দিনেই সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের ১৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জন আদালতে সাক্ষ্য দেন। গত বুধবার আত্মপক্ষ সমর্থন এবং গত বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি রায়ের দিন আজ রোববার ধার্য করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান দুলু বলেন, সাক্ষ্য-প্রমাণে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে ভিকটিম রামিসাকে হত্যার অভিযোগ প্রমাণ করতে আমরা সক্ষম হয়েছি। ট্রাইব্যুনাল স্বীয় বিবেচনায় আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদ- প্রদান করবেন, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমুল্লাহ বলেন, আমরা ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি।

