× UCB Sticker Card
রবিবার, ০৫ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুলাই ৫, ২০২৬, ০৬:১৮ এএম

গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

জুলাই গণহত্যার বিচার এ দেশের মাটিতেই হবে

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুলাই ৫, ২০২৬, ০৬:১৮ এএম

জুলাই গণহত্যার বিচার  এ দেশের মাটিতেই হবে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের গণহত্যার বিচার এ দেশের মাটিতেই হবে। তবে বিচারের নামে কারো প্রতি যেন অবিচার না হয়, সে বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবে। গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জুলাই শহিদদের আত্মত্যাগ এবং আহত ব্যক্তিদের অবদান স্মরণীয় করে রাখতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শহিদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে তিনি বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে শহিদ ও আহত ব্যক্তিদের যথাযথ মূল্যায়ন ও পুনর্বাসন করা সরকারের পবিত্র দায়িত্ব। তিনি আরও বলেন, ‘শহিদদের সর্বোচ্চ সম্মান ও স্বীকৃতি, আহত ব্যক্তিদের জীবনমান নিশ্চিত করতে এবং তাদের পূর্ণাঙ্গ পুনর্বাসন ও সহায়তা প্রদানে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।’

তারেক রহমান বলেছেন, আসুন আমরা যাদের হারিয়েছি, আপনারা যারা কষ্ট স্বীকার করেছেন, যন্ত্রণা ভোগ করছেন; আমাদের প্রত্যেকেরই লক্ষ্য ছিল এই দেশ, এই দেশের মানুষ, এই দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন। অর্থাৎ মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন, দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন। আজ আমাদের হাতে সেই সুযোগটি এসেছে। আমরা চাই না জাতিকে দ্বিধাবিভক্ত করে সামনে এগিয়ে যেতে। কারণ জাতিকে বিভক্ত করে দেশকে কখনো সামনে নেওয়া যায় না। দেশকে সামনে একমাত্র তখনই নেওয়া সম্ভব যদি আমরা সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারি।’

নিজের পরিবারের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনুষ্ঠান চলাকালে বারবার তার মনে হয়েছে, যদি তিনি তার মাকে জিজ্ঞাসা করতে পারতেনÑ তার ওপর হওয়া অবিচারের প্রতিশোধ নেওয়া উচিত কি না। তার বিশ্বাস, মা তাকে প্রতিশোধ নয়, বরং সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার কথাই বলতেন। একই উত্তর তার ভাইও দিতেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জুলাই শহিদদের হত্যার বিচার এ দেশের মাটিতেই হবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘তবে বিচারের নামে কারো প্রতি যেন অবিচার না হয়Ñ এ বিষয়ে অবশ্যই আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। একটু বিলম্ব হোক, তবু অন্যায়কারীর যেন সঠিক বিচার হয়। আমরা সেই চেষ্টাই করব।’

‘সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে জুলাই ২৪ শহিদ পরিবার সোসাইটি ও আমরা জুলাইযোদ্ধা কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই জাতীয় সম্মেলনে শতাধিক শহিদ পরিবারের সদস্য ও জুলাইযোদ্ধারা অংশ নেন। তারা প্রধানমন্ত্রীকে নিজেদের বেদনা ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।

‘আত্মত্যাগের মূল্যায়ন করা হবে’ : জুলাই বিপ্লবের শহিদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি প্রথমেই বলেছি, রাষ্ট্র ও দেশ তার যথাসাধ্য দিয়ে আপনাদেরকে মূল্যায়নের চেষ্টা করবে, আপনাদের আত্মত্যাগকে মূল্যায়ন করবে। একই সাথে আপনাদের আত্মত্যাগকেও সে রকম মূল্যায়ন করবে।’

‘আপনাদের বিরুদ্ধে যে অন্যায় হয়েছে, যেভাবে আপনার আপনজনকে হত্যা করা হয়েছে, অবশ্যই তার জন্য যারা দায়ী, তাদেরও বিচার হবে এই দেশের আইন অনুযায়ী। তবে আপনারা দেখেছেন, এখানে এই মঞ্চ থেকে আপনাদের স্মরণ করে দেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উনি উল্লেখ করেছেন, এরই ভেতরে কতগুলো বিচারকার্য সম্পন্ন হয়েছে।’

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘শুধু আমার দলেরই নয়, অন্য আরও রাজনৈতিক দল এবং একই সঙ্গে যেসব অরাজনৈতিক ব্যক্তিÑ যারা ৫ আগস্ট (ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন আন্দোলন) সফল করেছিলেন, তাদের সকলের কাছে বলতে চাই যে, আসুন স্বৈরাচার যেমন আমাদের প্রতি ও বাংলাদেশের লক্ষকোটি মানুষের প্রতি অবিচার করেছিল, আমরা বিচারের নামে কারো প্রতি যেন অবিচার না হয়, সে বিষয়টিতেও আমাদের সচেতন থাকতে হবে।’

সকাল সোয়া ১০টায় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে শহিদদের স্মরণে দোয়া ও মোনাজাত, জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং জুলাই আন্দোলনের ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে শহিদ পরিবারের সদস্যদের হাতে জুলাই স্মৃতি স্মারক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় শহিদ মিরাজের বাবা রব মিয়া, শহিদ সেলিমের ভাই উজ্জ্বল হোসেন, জুলাই অভ্যুত্থানে আহত আল মিরাজ এবং জুলাইযোদ্ধা আমিনুল ইসলাম ঈমন প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে স্মারক গ্রহণ করেন। পরে উপস্থিত অন্য পরিবারগুলোর কাছেও স্মারক পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়। শহিদ পরিবারের পক্ষ থেকেও প্রধানমন্ত্রীর হাতে একটি স্মৃতি স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার, সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!