আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ৩১ আগস্ট প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইতোমধ্যে সব উপজেলা/থানা নির্বাচন কর্মকর্তা ও নিবন্ধন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরী স্বাক্ষরিত এ-সংক্রান্ত চিঠি থেকে এসব তথ্য জানা যায়।
অন্যদিকে, স্থানীয় নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র ও ভোটকক্ষ স্থাপনের নীতিমালায় বড় পরিবর্তন এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটার সংখ্যার অনুপাতে ভোটকক্ষ নির্ধারণের আগের নিয়ম সংশোধন করে নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। গতকাল ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব (নির্বাচন সহায়তা-৩) মো. রশিদ মিয়ার সই করা এক সরকারি গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে। এতে বলা হয়েছে, সাধারণ নির্বাচনে গড়ে প্রতি ২ হাজার ভোটারের জন্য একটি করে ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হবে।
নাসির উদ্দিন চৌধুরীর চিঠিতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা হালনাগাদের উদ্যোগ নিয়েছে। ভোটার তালিকা হালনাগাদের লক্ষ্যে ভোটার তালিকা আইন অনুযায়ী যোগ্যতা অর্জনের তারিখ ৩১ জুলাই ২০০৮ নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে ভোটার তালিকা ডাটাবেইজে ৩১ জুলাই ২০০৮ তারিখ বা তার আগে যাদের জন্ম এমন ব্যক্তিদের মধ্যে ৩১ জুলাই ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত যারা ডাটাবেইজে নিবন্ধিত হয়েছেন বা হবেন, তাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ, দাবি, আপত্তি ও সংশোধনের জন্য আবেদন দাখিল এবং নিষ্পত্তি করে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের বিস্তারিত সময়সূচি কমিশন অনুমোদন করেছে।
কমিশন জানায়, হালনাগাদকৃত খসড়া ভোটার তালিকার পিডিএফ প্রস্তুত এবং মাঠ পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রেশন অফিসারের কাছে পাঠানোর শেষ তারিখ আগামী ৪ আগস্ট। এ ছাড়া খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ ৯ আগস্ট; দাবি, আপত্তি ও সংশোধনের জন্য আবেদন দাখিলের শেষ তারিখ ২৪ আগস্ট, সংশোধনকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক দাবি, আপত্তি ও সংশোধনীর জন্য দাখিলকৃত আবেদন নিষ্পত্তির শেষ তারিখ ২৭ আগস্ট; দাবি, আপত্তি ও সংশোধনীর জন্য দাখিলকৃত আবেদনের ওপর গৃহীত সিদ্ধান্ত সন্নিবেশের শেষ তারিখ ২৮ আগস্ট, হালনাগাদকৃত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ ৩১ আগস্ট।
অন্যদিকে, ভোটকক্ষে আগে যেখানে সাধারণভাবে প্রতি ৪০০ জন পুরুষ এবং ৩০০ থেকে ৩৫০ জন নারী ভোটারের জন্য একটি করে ভোটকক্ষ বরাদ্দ থাকত, নতুন নিয়মে সেটি বাড়িয়ে প্রতি ৬০০ পুরুষ ও ৫০০ নারী ভোটারের জন্য একটি করে ভোটকক্ষ নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে। একইভাবে উপনির্বাচনের ক্ষেত্রেও নিয়ম সংশোধন করা হয়েছে। আগে উপনির্বাচনে কোনো একটি পদে ভোটের জন্য ৫০০ পুরুষ ও ৪০০ নারী ভোটারের বিপরীতে একটি কক্ষ ব্যবহৃত হতো। এখন সাধারণ নির্বাচন বা উপনির্বাচন উভয় ক্ষেত্রেই প্রতি ৬০০ পুরুষ এবং ৫০০ নারী ভোটারের জন্য একটি করে ভোটকক্ষ বরাদ্দ থাকবে।
নতুন নীতিমালায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, চাপ কমাতে প্রতিটি ভোটকক্ষে প্রয়োজনে একাধিক গোপন কক্ষ বা মার্কিং প্লেস তৈরি করা যাবে। এ ছাড়া পূর্বের নিয়ম বহাল রেখে জানানো হয়েছে, প্রতিটি সাধারণ ওয়ার্ডের সীমানার ভেতরেই একটি করে ভোটকেন্দ্র স্থাপন করতে হবে। তবে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্থানীয় প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করে একই ওয়ার্ডে একাধিক ভোটকেন্দ্রও স্থাপন করা যাবে।

