ঢাকা শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬

ডিম, মুরগি ও ইলিশ বাড়তি দামে বিক্রি

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ১১, ২০২৬, ০৫:৪৫ এএম

পবিত্র ঈদুল আজহার পরে দাম বেড়েছে ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের। তার সঙ্গে আষাঢ়ের বৃষ্টিতে দাম বাড়েছে মোটা চালের, যা এখনো কমেনি। ইতিমধ্যে প্রবল বৃষ্টির কারণে সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে গত কয়েক দিনে ডিম ও মুরগির দাম নতুন করে অন্তত ২০ টাকা বেড়েছে। একই সঙ্গে ঢাকার বাজারে দাম বেড়েছে ইলিশের। তবে ঢাকার খুচরা বাজারে কমেছে সবজির দাম।

সরবরাহ ঠিক থাকায় এখনো তেল, চিনি ও ডালের দাম বাড়েনি। বিক্রেতারা বলছেন, আরও কয়েক দিন বাড়তি দামে ক্রেতাদের মুরগি কিনতে হতে পারে। রাজধানীর মগবাজার, শান্তিনগর ও কারওয়ান বাজার ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে।

কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা যায়, সরবরাহ সংকটে গতকাল শুক্রবার খুচরা পর্যায়ে বেশির ভাগ দোকানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ২০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। কোনো কোনো দোকানে ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অপরদিকে সোনালি মুরগি ৩৪০-৩৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। হাইব্রিড বা কালার বার্ড হিসেবে পরিচিত সোনালি মুরগি বিক্রি হয়েছে ৩০০-৩১০ টাকায়।

দুই সপ্তাহ আগে বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম ছিল ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা, সোনালি ৩২০-৩৩০ এবং হাইব্রিড সোনালি ২৮০-২৯০ টাকা। কারওয়ান বাজারে ৮০০ গ্রাম সাইজের ইলিশের কেজি ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক কেজি সাইজের দাম ২ হাজার ৮০০ এবং দেড় কেজি সাইজের ইলিশের দাম ৩ হাজার টাকা হাঁকাচ্ছেন বিক্রেতারা। তবে বাজারে ইলিশ নেই বলা চলে।

মুরগি বিক্রেতারা জানান, গত ঈদুল আজহার মাসখানেক আগে ১৫০ টাকায় ব্রয়লার মুরগি কেনা যেত। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুসারে, গত বছরের এই সময়ে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৫০-১৭০ টাকায় কেনা যেত। ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে সরবরাহ সংকটের অজুহাতে। দেশজুড়ে কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির কারণে মুরগির সরবরাহ খানিকটা বাধাগ্রস্ত হওয়ায় দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

ডিমের দাম প্রতি ডজনে খুচরা বেড়েছে অন্তত ৮ টাকা। ব্যবসায়ীরা বলেছেন, ১০০ ডিম কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ২০ টাকায়, যার কারণে অন্য খরচ বাদে প্রতিটি সাড়ে ১১ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। মগবাজারের ব্যবসায়ী মেহেদী হাসান বলেন, ‘ডিমের দাম বাড়তি। ঈদের পরে দাম বেড়েছে, এখনো বড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।’

কারওয়ান বাজারের মুরগি বিক্রেতা সোহেল আহমেদ বলেন, ‘বেশি গরমের কারণে গত দুই মাসে খামারগুলোতে কিছু মুরগি মরে গেছে; অনেকে আগে আগে বিক্রি করে দিয়েছেন। এ ছাড়া বর্তমানে বিভিন্ন এলাকায় ঠিকমতো বিদ্যুৎ থাকছে না। এ কারণে অনেক খামারে নতুন করে মুরগি তোলা হয়নি। সব মিলিয়ে মুরগির দাম বেশি।’

কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক-দেড় কেজি ওজনের রুই ৩৫০ টাকার কমে পাওয়া যায় না, যা আগে ৩০০ টাকায় কেনা যেত। আর ওজন দুই কেজি বা ওপরে হলে দাম ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। আর তেলাপিয়া, পাঙাশ, কইয়ের দামও আগের তুলনায় কেজিতে ২০-৩০ টাকা বেশি। অন্যান্য মাছের মধ্যে চিংড়ির কেজি ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা, পাবদা ৪০০-৫০০ টাকা, শিং ৪০০-৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ডিম ও মুরগির দাম কিছুটা বাড়লেও সপ্তাহের ব্যবধানে কিছু কিছু সবজির দাম কমেছে। এর মধ্যে ছোট পটোল ও ধুন্দলের দাম ৫০ টাকা থেকে কমে এখন ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়ও পাওয়া যাচ্ছে। কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত কমেছে ঢ্যাঁড়শের দামও। তবে বেগুনের দাম কিছুটা বেড়েছে। ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হওয়া লম্বা বেগুন কোনো কোনো দোকানি ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি করছেন। এ ছাড়া গোল বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে।

গত কয়েক দিনে বৃষ্টির কারণে বাজারে সবজির সরবরাহ কিছুটা কম। সাধারণত সবজির সরবরাহ কম থাকলে এবং মাছ-মুরগির দাম বাড়লে ডিমের চাহিদা বাড়ে, সঙ্গে দামও বাড়ে। গতকাল ফার্মের মুরগির প্রতি ডজন বাদামি রঙের ডিম ১৩০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। বাদামি ও সাদা রঙের ডিম (আকারে ছোট) বিক্রি হয়েছে ১১০-১২০ টাকায়।

টিসিবির তথ্য অনুসারে, গত এক সপ্তাহে খোলা সয়াবিন তেল, দেশি পেঁয়াজ ও শসার দাম বেড়েছে। আর দাম কমেছে সরু ও মোটা চাল, খোলা আটা, আমদানি করা রসুন ও বেগুনের। এর মধ্যে খোলা সয়াবিনের দাম লিটারে ২ টাকা বেড়ে ১৮৮-১৯৫ টাকা হয়েছে। দেশি পেঁয়াজের দাম ৫ টাকা বেড়ে কেজি হয়েছে ৪০-৪৫ টাকা। শসার দামও কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৬০-৮০ টাকা হয়েছে। অন্যদিকে কয়েক ধরনের সরু ও মোটা চালের দাম কেজিতে ২ টাকা করে কমার তথ্য জানিয়েছে টিসিবি। আর বেগুনের দাম কেজিতে ২০ টাকা কমে ৬০-৮০ টাকা হয়েছে। অন্যান্য সবজির দাম মোটামুটি স্থিতিশীল।