বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে ব্রাজিলের বিদায়ের পর সেলেসাওদের জার্সিতে নিজের শেষ ম্যাচ খেলার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন নেইমার জুনিয়র। আর এরপরই ফুটবল বিশ্বে নতুন এক ঝড় উঠেছেÑ ৩৪ বছর বয়সি এই ‘পোস্টার বয়’ কি শুধু জাতীয় দলকেই বিদায় জানাচ্ছেন, নাকি চিরতরে বিদায় বলছেন পেশাদার ফুটবলকে? নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের সেই একমাত্র সান্ত¡নাসূচক গোলটিই কি তবে নেইমারের ক্যারিয়ারের শেষ গোল হয়ে থাকবে?
ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম ‘জিই’ অবশ্য ফুটবলপ্রেমীদের কিছুটা স্বস্তির খবর দিয়েছে। তাদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নেইমারের তাৎক্ষণিক অবসরের সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া না গেলেও তা আপাতত বেশ দুর্বল। ফুটবলীয় চাপ থেকে মুক্ত হতে বর্তমানে সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রে ছুটি কাটাচ্ছেন নেইমার। ছুটি শেষে আগামী ১৭ জুলাই সান্তোসের ‘রেই পেলে’ অনুশীলন কেন্দ্রে তার ফেরার দিন ঠিক করা হয়েছে। শৈশবের ক্লাব সান্তোসের সঙ্গে আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চুক্তি রয়েছে এই মহাতারকার।
তবে সান্তোসের অন্দরে নেইমারের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক ধরনের ধোঁয়াশা কাটছেই না। গত কয়েক বছরের লাগাতার ইনজুরি এবং সেলেসাওদের এক যুগেরও বেশি সময় ধরে টেনে নেওয়ার মানসিক ও শারীরিক ধকল নেইমারকে ক্লান্ত করে তুলেছে। তার ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, বিশ^কাপের ট্র্যাজেডির পর ফুটবলের ওপর এক ধরনের তীব্র বিরক্তি চলে এসেছে তার। অবসরের এই গুঞ্জন আরও ডালপালা মেলে নেইমারের বাবার একটি আবেগঘন বার্তার পর, যেখানে তিনি ছেলেকে অনুরোধ করে লিখেছেন, ‘বল পায়ে আবার আনন্দ খুঁজে নাও। মাঠে নিজের হাসিটা ফিরিয়ে আনো।’ বাবার এই বার্তার পর ফুটবল ছাড়ার সিদ্ধান্ত থেকে নেইমার কিছুটা সরে এসেছেন বলেই ধারণা করছে ব্রাজিলিয়ান মিডিয়া।
বছরের দ্বিতীয় ভাগে সান্তোসের হয়ে ব্যস্ত সূচি অপেক্ষা করছে নেইমারের সামনে। ব্রাজিলিয়ান লিগের পাশাপাশি কোপা দো ব্রাজিল ও কোপা সুদামেরিকানার ম্যাচ রয়েছে ক্লাবের। আগামী ২১ জুলাই ভেনেজুয়েলার ইউনিভার্সিদাদ সেন্ট্রালের বিপক্ষে সান্তোসের ম্যাচ থাকলেও সেই সফরে নেইমার থাকবেন কি না, তা নিয়ে এখনো সংশয় রয়েছে। মাঠের বাইরের জটিলতাও কম নয়; ইমেজ স্বত্ব বাবদ নেইমারের কাছে সান্তোসের বকেয়া রয়েছে ৯ কোটি ব্রাজিলিয়ান রিয়াল, যা ২০৩০ সালের মধ্যে পরিশোধের চুক্তি হয়েছে।
ডিসেম্বরে সান্তোসের চুক্তি শেষ হওয়ার পর নেইমারের পরবর্তী গন্তব্য নিয়ে ফিসফাস চলছে যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারেও। সিনসিনান্তির আগ্রহ কমলেও এমএলএসের অন্যান্য ক্লাব রেকর্ড অঙ্কের প্রস্তাব নিয়ে তৈরি। কম চাপ ও আকর্ষণীয় লাইফস্টাইলের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের লিগ তাকে টানতেই পারে। তবে আপাতত সব জল্পনা পাশে রেখে ১৭ জুলাই সান্তোসের জার্সিতেই মাঠে ফিরছেন নেইমার। বছরের শেষ দিকে তিনি সান্তোসেই চুক্তি বাড়াবেন, নাকি এমএলএসের বিমানে চড়বেন, নাকি সত্যিই বুটজোড়া তুলে রাখবেনÑ সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ফুটবল ইতিহাসের এই রাজপুত্রের একান্তই নিজের।

