ঢাকা শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬

বিতর্ক ও পরিসংখ্যানের গোলকধাঁধা

সত্যিই কি বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে আর্জেন্টিনা

মাঠে ময়দানে ডেস্ক
প্রকাশিত: জুলাই ১১, ২০২৬, ০৭:০৪ এএম

মাঠের গ্যালারি থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, টেলিভিশনের স্টুডিও থেকে সংবাদমাধ্যমের পাতাÑ চলতি বিশ^কাপজুড়ে এখন একটি প্রশ্নই সবচেয়ে বেশি ঘুরপাক খাচ্ছে, আর্জেন্টিনা কি সত্যিই রেফারি বা ফিফার কাছ থেকে বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে? মিসরের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও অবিশ্বাস্যভাবে ৩-২ ব্যবধানে বিশ^চ্যাম্পিয়নদের জয় পাওয়ার পর এই গুঞ্জন রূপ নিয়েছে তুমুল বিতর্কে। মাঠের রোমাঞ্চকর প্রত্যাবর্তনকে ছাপিয়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ভিএআর এবং রেফারির সিদ্ধান্ত।

মিসরের কোচ হোসাম হাসান ম্যাচ শেষে সরাসরি তোপ দেগেছেন ফিফার ওপর। তার দাবি, লিওনেল মেসি ও বিশ^চ্যাম্পিয়নদের টুর্নামেন্টে টিকিয়ে রাখতেই তাদের ওপর অবিচার করা হয়েছে। মিসরের ক্ষোভের কারণ মূলত তাদের একটি গোল বাতিল হওয়া এবং ডি-বক্সে দুটি পেনাল্টির দাবি নাকচ হওয়া। ভিএআরের সূক্ষ্ম বিচারে আক্রমণভাগের শুরুতে ফাউলের অভিযোগে মিসরের গোল বাতিল হলেও, পরবর্তীতে ঠিক একই কায়দায় তারা আরেকটি গোল করে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছিল। এরপর মোহাম্মদ সালাহ ও হামদি ফাতহিকে ডি-বক্সে ফাউল করার দুটি আবেদনে ভিএআর সাড়া না দেওয়ায় বিতর্ক ডালপালা মেলে। তবে বার্তা সংস্থা বিবিসি তাদের বিশ্লেষণে জানিয়েছে, রেফারি ও ভিএআরের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে, কিন্তু একে ‘ষড়যন্ত্রের অকাট্য প্রমাণ’ বলা চলে না।

বিতর্কের আগুন অবশ্য এখানেই নিভে যাচ্ছে না। টুর্নামেন্টের শুরুতে আলজেরিয়ার আইসা মান্দির ওপর লিওনেল মেসির বুট উঁচিয়ে করা একটি বিপজ্জনক ট্যাকল কোনো কার্ড ছাড়াই পার পেয়ে যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। যেখানে প্রায় একই অপরাধে মার্কিন ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানকে সরাসরি লাল কার্ড দেখতে হয়েছে, সেখানে মেসির ছাড় পাওয়াকে অনেকেই রেফারিদের ‘বিশেষ সহনশীলতা’ হিসেবে দেখছেন। যদিও রেফারিদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মেসির ফাউলটি ছিল অনিচ্ছাকৃত দুর্ঘটনা। সমালোচকেরা অবশ্য এর পেছনে বাণিজ্যিক স্বার্থের ছায়াও দেখছেন, যেমনটা দেখা গিয়েছিল গত বছরের ক্লাব বিশ্বকাপে এলএ গ্যালাক্সিকে টপকে ইন্টার মায়ামিকে সুযোগ দেওয়ার ফিফার সেই বিতর্কিত সিদ্ধান্তে।

সবচেয়ে বড় খটকাটা লাগছে নিরপেক্ষ পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে। চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা গড়ে প্রতি ১৯.৭টি ফাউলের বিপরীতে একটি হলুদ কার্ড দেখছে, যা টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা পরিচ্ছন্ন রেকর্ড। বিপরীতে ইংল্যান্ডের মতো দলকে প্রতি ৭.৭টি ফাউল করলেই হলুদ কার্ড পকেটে পুরতে হচ্ছে। এই বিশাল ব্যবধান প্রমাণ করে যে, রেফারিরা মাঠের চ্যাম্পিয়নদের ফাউলের তীব্রতা বিচার করতে গিয়ে কিছুটা হলেও নমনীয় আচরণ করছেন।

তা হলে শেষ পর্যন্ত উত্তরটা কী? আর্জেন্টিনা কি সত্যিই সুবিধা পাচ্ছে? এর পক্ষে কোনো অকাট্য বা আইনি প্রমাণ নেই। ফুটবল ইতিহাসে ব্রাজিল, জার্মানি বা ইতালির মতো পরাশক্তিদের নিয়েও অতীতে এমন বহু বিতর্ক হয়েছে। বড় দল আর বড় তারকাদের ঘিরে এমন আলোচনা ফুটবলেরই অংশ। তবে অভিযোগের আড়ালে আসল সত্য যা-ই হোক না কেন, কোয়ার্টার ফাইনালে নামার আগে লিওনেল মেসিদের প্রতিটি পদক্ষেপ, প্রতিটি গোল আর রেফারির প্রতিটি বাঁশি যে এখন থেকে বিশ্ববাসীর ম্যাগনিফাইং গ্লাসের নিচে থাকবে, তা বলাই বাহুল্য।