টাইব্রেকারের রুদ্ধশ^াস স্নায়ুযুদ্ধে কলম্বিয়াকে স্তব্ধ করে দিয়ে দীর্ঘ ৭২ বছর পর বিশ^কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে সুইজারল্যান্ড। আর সুইসদের এই রূপকথার মহানায়ক বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের প্রাচীর গ্রেগর কোবেল। হুয়ান কামিলো হার্নান্দেজের পেনাল্টি শট চিতার মতো ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে যিনি দলকে এনে দিয়েছেন শেষ আটের টিকিট। আগামীকাল রোববার কানসাস সিটিতে সেমিফাইনালে ওঠার মহাসংগ্রামে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হচ্ছে সুইসরা। আলবিসেলেস্তেদের বিশ^জয়ী আক্রমণভাগকে রুখে দিতে এবার লিওনেল মেসিদের সামনে এক নতুন ‘ভোজিনহা’ হয়ে দাঁড়াতে প্রস্তুত এই সুইস গোলরক্ষক।
কিংবদন্তি ইয়ান সোমারের অবসরের পর সুইজারল্যান্ডের গোলপোস্টের দায়িত্ব নেওয়া কোবেল চলতি বিশ্বকাপে আছেন ক্যারিয়ারের সেরা ফর্মে। গ্রুপপর্বে কাতার, বসনিয়া ও কানাডার বিপক্ষে গোল হজম করলেও নকআউট পর্বের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আলজেরিয়া ও কলম্বিয়ার আক্রমণভাগকে পুরোপুরি বোতলবন্দি করে রেখেছেন তিনি, ধরে রেখেছেন মূল্যবান ‘ক্লিন শিট’। পুরো টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত ১৬টি চোখধাঁধানো সেভ করা কোবেলের পরাস্ত হওয়া কেবল ৩টি গোলের গল্প। ফাইনাল পর্যন্ত যাওয়ার পণ নিয়ে এই গোলরক্ষক বিশ^কাপে এসেছেন ৮ জোড়া একদম নতুন গ্লাভস নিয়ে, যার প্রতি জোড়া তিনি ব্যবহার করেন কেবল একটি ম্যাচের জন্য।
তবে কোবেলের আসল রহস্য লুকিয়ে আছে তার গ্লাভসে এবং মনস্তত্ত্বে। সুইস সংবাদমাধ্যম ‘ব্লিক’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি ফাঁস করেছেন এক অদ্ভুত টোটকা। ম্যাচের আগে নিজের গ্লাভসে মাখেন ভ্যাসেলিন! কোবেলের ভাষায়, ‘বিশ্বকাপের একদম নতুন বলগুলোর ওপর একটা প্লাস্টিকের প্রলেপ থাকে, যা পানি লাগলে সাবানের মতো পিচ্ছিল হয়ে যায়। বল যেন গ্রিপ থেকে ফসকে না যায়, তাই আমি ভ্যাসলিন ব্যবহার করি।’ আধুনিক ফুটবলের এই চতুর কৌশল ছাড়াও টাইব্রেকারে তার আছে ভিন্নধর্মী এক দর্শন। যেখানে অন্য গোলরক্ষকেরা বোতলে বা চিরকুটে প্রতিপক্ষের পেনাল্টি নেওয়ার চিপ-শিট লিখে রাখেন, কোবেল সেখানে চলেন নিজের সহজাত প্রবৃত্তির (ইনটুইশন) ওপর ভরসা করে। কোনো চিরকুট ছাড়াই মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ে জেতাই তার প্রধান অস্ত্র।
চলমান বিশ^কাপে কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহা কিংবা মিসরের মোস্তফা শোবেইরের দারুণ সব সেভ আর্জেন্টিনাকে বেশ ভুগিয়েছিল। এবার কোয়ার্টার ফাইনালে মেসি, আলভারেজদের গোল উৎসব করতে হলে ভাঙতে হবে কোবেলের তৈরি এই ‘ভ্যাসেলিন দেয়াল’। আর ম্যাচ যদি কোনোভাবে টাইব্রেকারে গড়ায়, তবে আর্জেন্টাইন পেনাল্টি টেকারদের জন্য কোবেল যে এক বিশাল মনস্তাত্ত্বিক বাধা হয়ে দাঁড়াবেন, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

