চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে মুহাম্মদ নুরুল আজম (৪৮) নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করার পর কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার মেখল ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেখল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মাছ ধরা নিয়ে ঝগড়া থেকে গুলির পাশাপাশি কোপানো হলেও তার পরিবারের অভিযোগ, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে ‘বড় ভাইয়ের পরিকল্পনায়’ তাকে খুন করা হয়েছে।
নিহত ব্যক্তির বাড়ি ঘটনাস্থল থেকে ৫০০ মিটার দূরে। নিহত আজম নিজ ঘরেই কাপড় সেলাইয়ের কাজ করে সংসার চালাতেন। স্থানীয়রা জানান, আজম পুলিশের তথ্যদাতা (সোর্স) হিসেবেও কাজ করতেন। তিনি মেখল ইউনিয়নের খলিফাপাড়া এলাকার মৃত ইসলামের ছেলে। তার দুই মেয়ে ও এক ছেলেসন্তান রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, সকালে বাড়ির পাশের বিলে জাল দিয়ে মাছ ধরছিলেন আজম। এ সময় কয়েকজন দুর্বৃত্ত প্রথমে আজমের পায়ে গুলি করে। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আজমের লাশ উদ্ধার করে।
হাটহাজারীর মেখল ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মুহাম্মদ সৈয়দ মিয়া বলেন, পূর্ববিরোধকে কেন্দ্র করে একই এলাকার দিদারুল আলম নামে এক ব্যক্তির নেতৃত্বে এ হত্যাকা- ঘটেছে বলে জানা গেছে। পুলিশ দিদারুল আলমকে খুঁজছে।
জেলা পুলিশের হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আজিজ বলেন, শুক্রবার দুপুরে আজম নামে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে হাটহাজারী থানার পুলিশ। সকালে বাড়ির সামনে মাছ ধরা নিয়ে প্রতিবেশী কিছু লোকের সঙ্গে ঝগড়া হয় নুরুল আজমের। তখন তাকে প্রকাশ্যে গুলি ও চাপাতি দিয়ে কোপানো হয়। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, নিজের মেয়ে ও পরিবারের সদস্যদের সামনে নুরুল আজমকে খুন করা হয়েছে। এ ঘটনার জন্য পরিবারের সদস্যরা আজমের ভাইকে দায়ী এবং হত্যাকা-কে পরিকল্পিত বলে অভিযোগ করেছেন। আজমও মৃত্যুর আগে আহত অবস্থায় তার ওপর হামলার জন্য ভাইকে দায়ী করেছেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।

