ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ দারুণ ছন্দে থাকা ফ্রান্সকে ঘিরে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালে ওঠার পর অনেকের প্রশ্নÑ এটাই কি ইতিহাসের সেরা ফরাসি দল? ১৯৯৮ ও ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ জেতা দলের উত্তরসূরিরা এবারও শিরোপার অন্যতম দাবিদার। বিশ্লেষকদের মতে, আগামী ১৯ জুলাই বিশ্বকাপ জিততে পারলে দিদিয়ের দেশমের বর্তমান দলটিকে ফ্রান্সের সর্বকালের সেরা দল বলার যথেষ্ট ভিত্তি তৈরি হবে।
কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধে মাত্র ছয় মিনিটের ব্যবধানে ২টি গোল করে জয় নিশ্চিত করে ফ্রান্স। প্রথমে কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং পরে ব্যালন ডি’অর বিজয়ী উসমান দেম্বেলের গোলে সহজ জয় তুলে নেয় ফরাসিরা। চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ১৬ গোল করেছে ফ্রান্স, যা দল হিসেবে আসরের সর্বোচ্চ।
এদিন পেনাল্টি মিস করেও ম্যাচে গোল করে টুর্নামেন্টে নিজের গোলসংখ্যা আটে নিয়ে যান এমবাপ্পে। এতে আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসির সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় উঠে এসেছেন তিনি। তবে বেশি অ্যাসিস্ট থাকায় গোল্ডেন বুটের দৌড়ে আপাতত এগিয়ে ফরাসি অধিনায়ক। অন্যদিকে ৫ গোল করে দেম্বেলেও রয়েছেন দুর্দান্ত ছন্দে। গত ৫০ বছরে একটি বিশ্বকাপে ৫ বা তার বেশি গোল করা দুই ফুটবলার থাকা মাত্র দ্বিতীয় দল হলো ফ্রান্স। এর আগে ২০০২ সালে ব্রাজিলের রোনালদো ও রিভালদো এই কীর্তি গড়েছিলেন।
১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য প্যাট্রিক ভিয়েরা মনে করেন, বর্তমান ফরাসি দলটি অসাধারণ প্রতিভায় ভরপুর। আইটিভিকে তিনি বলেন, ‘এই প্রজন্মের খেলোয়াড়দের দিকে তাকালে মনে হয় এটি ফ্রান্সের অন্যতম সেরা দল। বিশেষ করে আক্রমণভাগে এত বেশি মানসম্পন্ন খেলোয়াড় রয়েছে, যা সত্যিই অবিশ্বাস্য।’
২০১২ সাল থেকে ফ্রান্সের দায়িত্বে থাকা দিদিয়ের দেশম আগেই জানিয়েছেন, এটাই জাতীয় দলের কোচ হিসেবে তার শেষ টুর্নামেন্ট। তার অধীনে ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ জিতেছে ফ্রান্স, ২০২২ সালে রানার্সআপ হয়েছে এবং এবারও টানা তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন দেখছে দলটি।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান ফ্রান্স দলের সবচেয়ে বড় শক্তি আক্রমণভাগের গভীরতা। এমবাপ্পে ও দেম্বেলের পাশাপাশি মাইকেল ওলিজ, ব্র্যাডলি বারকোলা, দেজিরে দুয়ে, রায়ান শেরকি ও জ্যাঁ-ফিলিপ মাতেতার মতো তারকারা রয়েছেন স্কোয়াডে। অন্যদিকে ছয় ম্যাচে মাত্র ২টি গোল হজম করে রক্ষণভাগেও নিজেদের দৃঢ়তার প্রমাণ দিয়েছে ফরাসিরা।
স্কটল্যান্ডের সাবেক ফরোয়ার্ড প্যাট নেভিনের মতে, ফ্রান্সই এই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে দক্ষ ও ভয়ংকর আক্রমণাত্মক দল। আর সাবেক ইংল্যান্ড তারকা ইয়ান রাইট বলেন, ‘ফ্রান্সের দুর্বলতা খুঁজে পাওয়া কঠিন। তাদের ব্যক্তিগত নৈপুণ্য যেমন অসাধারণ, তেমনি দল হিসেবেও তারা প্রায় নিখুঁত।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক অধিনায়ক রয় কিন অবশ্য সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ফ্রান্সকে হারানো অসম্ভব নয়। তবে তাদের বিপক্ষে জিততে হলে প্রতিপক্ষকে আগে গোল করতে হবে। কারণ এগিয়ে গেলে ফরাসিরা পাল্টা আক্রমণে আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে।
এখন বিশ্বকাপে তৃতীয় শিরোপা জিততে ফ্রান্সের প্রয়োজন আর মাত্র ২টি জয়। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই দলের সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ হয়তো অন্য কোনো দল নয়, বরং নিজেদের আত্মতুষ্টি।

