ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন, ২০২৬

কোনোভাবেই কমছে না হামের প্রাদুর্ভাব

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুন ৫, ২০২৬, ০৫:৪৫ এএম

দিনে দিনে কমার চাইতে বাড়ছে হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। একই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যুও। প্রতিদিনই হামের সংক্রমণ ও উপসর্গে প্রাণ হারাচ্ছে একাধিক শিশু। গত ১৫ মার্চ থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মাত্র ৮২ দিনে দেশে হামের সংক্রমণে প্রাণ গেছে ৬০৫ নিষ্পাপ শিশুর। শুধু গত ২৪ ঘণ্টাতেই মারা গেছে চার শিশু। এমন পরিস্থিতিতে হামের ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ রোধে সরকারের পক্ষ থেকে যত ধরনের গণসচেতনতা প্রয়োজন, তা বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল বৃহস্পতিবার জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এতে করে গত ১৫ মার্চ থেকে গতকাল ৪ জুন মাত্র ৮২ দিনে হাম এবং সন্দেহজনক হামে মোট ৬০৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগী ১ হাজার ১৩৬ জনকে নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৭৫ হাজার ৭০৮। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ছিল ৬৯। এর ফলে গত ১৫ মার্চ থেকে ৪ জুন পর্যন্ত নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ২৬০। আর ১৫ মার্চ থেকে ৪ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬১ হাজার ১৯৪ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ৫৭ হাজার ৪৩ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ৪ জুন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৯১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে হামে আক্রান্ত হলে যে কোনো রোগীকে আইসোলেশনে রাখার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রচারণার তাগিদ দিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, করোনার সময় যেমনটা হয়েছিল সংক্রমণ রোধে রোগীর আইসোলেশন। রোগীকে অন্য সাধারণের সংস্পর্শ থেকে আলাদা রাখতে হবে। যেহেতু সরকার টিকাদান কার্যক্রম গুরুত্ব দিয়ে চালাচ্ছে, তবু হাম নিয়ন্ত্রণে আসছে না, তাই রোগীকে আইসোলেশনের বিকল্প আপাতত নেই। হাসপাতালে হোক বা বাড়িতে, আক্রান্ত রোগীকে অবশ্যই আলাদা রুমে বা ওয়ার্ডে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। নইলে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। আর এর প্রচারণাটা সরকারের পক্ষ থেকেই চালাতে হবে। জনসাধারণকেও সচেতন হতে হবে। জ¦র বা শরীরে র‌্যাশ দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে। নইলে মহামারি রোধ করা কঠিন হয়ে যাবে। তিনি বলেন, জ¦র, কাশি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া হামের প্রাথমিক লক্ষণ। এ সময়টায় অবহেলা করলে ধীরে ধীরে অবস্থার অবনতি হয়। তাই সচেতনতার বিকল্প নেই।