তীব্র গরমে রান্নাঘরের চুলার কাছে যাওয়া যেমন কষ্টের, তেমনি এই সময়ে অনেকের ক্ষুধাও কমে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গরমে সুস্থ থাকতে ভারি প্রোটিন যেমনÑ গরু বা খাসির মাংস এড়িয়ে চলাই ভালো। কারণ প্রোটিন হজম করতে গিয়ে শরীর আরও বেশি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং ঘাম বাড়ে। এর বদলে চর্বিহীন হালকা মাছ, ডিম, টক দই, বাদাম কিংবা ডালের মতো সহজপাচ্য খাবার খাওয়া উচিত। এ ছাড়া রান্নার জন্য ওভেনের বদলে এয়ার ফ্রায়ার বা স্লো কুকার ব্যবহার করলে রান্নাঘর ও ঘর দুটোই ঠান্ডা থাকে।
গরমে শরীর সতেজ রাখার সবচেয়ে বড় উপায় হলো, কেবল পানি পান না করে ‘পানিযুক্ত খাবার’ খাওয়া। শসা, তরমুজ, টমেটো, লেটুস ও কমলার মতো ফল এবং সবজিতে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশের বেশি পানি থাকে, যা প্রাকৃতিকভাবে শরীরে পানির ঘাটতি পূরণ করে। আপনার শরীর পর্যাপ্ত হাইড্রেটেড কি না, তা প্রস্রাবের রং দেখেই বোঝা যায়; প্রস্রাবের রং হালকা হলুদ হলে শরীর সুস্থ, কিন্তু তা গাঢ় বা ওয়ান কালার হলে দ্রুত পানি পানের সংকেত দেয়।
অনেকের ধারণা, গরমে শুধু ঠান্ডা পানীয়ই আরাম দেয়, তবে বিজ্ঞান বলছে ভিন্ন কথা। গরম চা বা ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানীয় পান করলে শরীর দ্রুত ঘাম নিঃসরণ করে নিজেকে ঠান্ডা করে নেয়। তবে দিনে অতিরিক্ত কফি বা অ্যালকোহল পান করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ এগুলো শরীরকে পানিশূন্য করে তোলে। গরমের দিনগুলোতে সুস্থ থাকতে ইউরোপীয়দের মতো সকালে দ্রুত নাস্তা করা, দুপুরে বিশ্রাম নেওয়া এবং রাতে কিছুটা দেরিতে হালকা খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা দারুণ কার্যকরী হতে পারে। সূত্র : বিবিসি।

