ঢাকা শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬

জঙ্গি সংগঠনে জড়িত সন্দেহে সিঙ্গাপুর ফেরত দুই যুবক রিমান্ডে

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ১০, ২০২৬, ০৬:২৩ এএম

জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সন্দেহে গ্রেপ্তার সিঙ্গাপুর ফেরত দুই যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা এই আদেশ দেন। রিমান্ডে যাওয়া দুই যুবক হলেনÑ সাহেদুল ইসলাম ও রিশাদ তায়ানী। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের তথ্য নিশ্চিত করেন।

সিঙ্গাপুরে অবস্থানকালে জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন সন্দেহে সেখানকার (সিঙ্গাপুর) পুলিশ তাদের আটক করে। গত বুধবার বিমানযোগে সিঙ্গাপুর পুলিশ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশনের কর্তব্যরত অফিসের কাছে পাঠায়। সিটিটিসি কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দর থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করে। পরে তাদের হেফাজতে নেয় পুলিশ। বিমানবন্দর থানার এসআই আশরাফুল আলম তাদের ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা সিঙ্গাপুরে অবস্থানকালে বিভিন্ন নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন মর্মে জানান। তারা যেকোনো সময় বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে জঙ্গি হামলা করতে পারেন এমন সম্ভাবনা রয়েছে। তারা বাংলাদেশের কোনো নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত কি না, কোনো ইলেকট্রনিকস ব্যবহার করে নিষিদ্ধ কার্যক্রম পরিচালনা করে কি না, জঙ্গি কার্যক্রমের অর্থের যোগানদাতা কে বা কারা তা জানা, বাংলাদেশে তাদের অস্তিত্ব আছে কি না এবং আন্তর্জাতিক নিষিদ্ধ কোনো সংগঠনের সঙ্গে জড়িত কি না, তা জানার জন্য আসামিদের রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থনা করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

প্রসিকিউটর শামছুদ্দোহা সুমন আসামিদের রিমান্ড মঞ্জুরের যুক্তি তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশের অনেক শ্রমিক সিঙ্গাপুরে কাজ করেন। তাদের এমন কর্মকা-ে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হতে পারে। তাদের সঙ্গে আরও কারা জড়িত রয়েছে এবং তারা কেন এমন কর্মকা-ে জড়িত হয়েছে, সেসব তথ্য উদ্ঘাটনের জন্য রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন। কারণ সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শ্রমিকেরা কাজ করেন। এমন ঘটনায় এসব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হতে পারে। এ জন্য তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞেসাবাদ করা প্রয়োজন।

আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। এ সময় কাঠগড়ায় দাঁড়ানো যুবক রিশাদ তায়ানীর কাছে বিচারক জানতে চান তাদের কেন সিঙ্গাপুর পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। রিশাদ জানান, ফারাবি নামের এক লোককে নিয়ে ফেসবুকে লিখছিলেন এ কারণে। ফারাবি কোন দেশের নাগরিক বিচারক জানতে চাইলে রিশাদ বলেন, তিনি বাংলাদেশের হেফাজত ইসলামের এক নেতা। তাকে বাংলাদেশের কারাগারে রাখা হয়েছিল। এখন তিনি কারামুক্ত। ২০২৩ সালে ফেইসবুকে এই পোস্ট করেছিলেন বলে বিচারককে জানান তিনি। তখন বিচারক বলেন, ‘আপনারা রেমিট্যান্স-যোদ্ধা। আপনাদের কী দরকার এসব নিয়ে কথা বলা?’ পরে আদালত দুজনকে তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়।