ঢাকা বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬

বিআরটিএ’র ওয়েবসাইট ক্লোন করে এআই-ভিত্তিক ট্রাফিক জরিমানা আদায়

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুন ১৭, ২০২৬, ০৩:১২ এএম

অফিসের ব্যস্ততা কিংবা দিনের কর্মব্যস্ততার মাঝে হঠাৎ মোবাইল ফোনে একটি এসএমএস ‘আপনার গাড়ি ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করেছে, জরিমানা পরিশোধ না করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ সঙ্গে দেওয়া বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ওয়েবসাইটের মতো দেখতে একটি ভুয়া লিংক। সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম ও আইনি ঝামেলার ভয় দেখিয়ে এমন বার্তার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ব্যাংক হিসাব খালি করে আসছিল এই সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত করতে গিয়ে এমন তথ্য পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সাইবার পুলিশ সেন্টার। এ ঘটনায় তিন প্রতারককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সিআইডি জানিয়েছে, বিআরটিএ’র ওয়েবসাইটের আদলে ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে জরিমানা আদায়ের নামে ব্যক্তিগত ও ব্যাংকিং তথ্য হাতিয়ে প্রতারণা করে আসছিল একটি চক্র। এই চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেপ্তাররা হলেনÑ মো. রাব্বি শেখ (২৪), মো. রিয়াদ হোসেন (৩১) এবং মো. সাজ্জাদ হোসেন (৩১)। সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) পৃথক অভিযানে প্রযুক্তিগত তদন্ত ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) সানা শামিনুর রহমান জানান, ডিএমপির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ক্যামেরার মাধ্যমে ট্রাফিক মামলা কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর একটি প্রতারক চক্র এটি কাজে লাগিয়ে প্রতারণা শুরু করে। চক্রটি বিআরটিএ’র ওয়েবসাইটের অনুরূপ একটি ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করে সাধারণ মানুষকে টার্গেট করছিল। প্রতারক চক্রটি বিভিন্ন ব্যক্তির মোবাইল নম্বরে এসএমএস পাঠিয়ে জানাত ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করায় মামলা হয়েছে। এসএমএসে থাকা লিংকে প্রবেশ করলে ভুক্তভোগীদের বিআরটিএ’র ওয়েবসাইটের আদলে তৈরি করা একটি ভুয়া ওয়েবসাইটে নেওয়া হতো। সেখানে জরিমানা পরিশোধের কথা বলে ব্যাংক কার্ডের তথ্য, অ্যাকাউন্টের তথ্য ও ওটিপি সংগ্রহ করত প্রতারকরা। এমনকি দ্রুত জরিমানা পরিশোধ করলে ৫০ শতাংশ ছাড় পাওয়া যাবেÑ এমন প্রলোভনও দেখানো হতো।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রতারক চক্র কৌশলে টার্গেট করা গাড়ির চালক বা মালিকদের কাছ থেকে ওটিপি সংগ্রহের পর ভুক্তভোগীদের ব্যাংক হিসাব থেকে নিজেদের অ্যাকাউন্টে টাকা স্থানান্তর করতেন। এভাবে গ্রেপ্তার তিন আসামি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে মোট সাত লাখ ২৫ হাজার ৬০০ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। সাইবার পুলিশ সেন্টারের সাইবার ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্টের আভিযানিক দল প্রযুক্তিগত তদন্ত ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে খুলনা, ফেনী ও ঢাকার দক্ষিণখান এলাকায় অভিযান চালিয়ে এদের গ্রেপ্তার করে।