ঢাকা শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬

আটক যুবককে হত্যার গুজব

আগৈলঝাড়া থানায় হামলার ঘটনায় পুলিশসহ আহত ১৫

বরিশাল প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ১০, ২০২৬, ০৬:০৯ এএম

চোর সন্দেহে আটক যুবককে পিটিয়ে হত্যার গুজবে বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশের পাঁচ সদস্যসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে আগৈলঝাড়া থানায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, বাকাল ইউনিয়নের ফুল্লশ্রী গ্রামের মো. ছিদ্দিক ফকিরের ছেলে একাধিক মামলার আসামি রিয়াজ ফকিরকে চুরির মামলায় বুধবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার বিকেলে রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজব এলাকায় ছড়িয়ে পরলে তার আত্মীয়স্বজনসহ শতাধিক লোক মিছিল নিয়ে থানা কম্পাউন্ডে প্রবেশ করেন। এ সময় পুলিশ বাধা দিতে চাইলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগি¦ত-া এবং পরবর্তীতে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

থানার সিসি ক্যামেরা ফুটেজে দেখা গেছে, সবুজ টিশার্ট পরিহিত রিয়াজ ফকির গারদে প্রবেশ করেন। গারদের লোহার গেটের সঙ্গে নিজের মাথায় নিজেই আঘাত করে অজ্ঞান হয়ে পড়েন।

দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা বুধবার রাত ১১টায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তবে রিয়াজের জ্ঞান ফিরে না আসায় গভীর রাতে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। দীর্ঘ সময় হলেও রিয়াজ ফকিরের জ্ঞান না ফেরায় মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। রিয়াজের আত্মীয়স্বজনসহ এলাকার শতাধিক লোক বৃহস্পতিবার বিকেলে মিছিল নিয়ে থানায় গিয়ে হামলা করে থানার ডিউটি অফিসার এএসআই আ. হালিমকে মারধর করে। পুলিশও বাঁশ ও লাঠি নিয়ে মিছিলকারীদের ওপর হামলা করলে রিয়াজের মা নাছরিন বেগম (৫০), বোন শারমিন আক্তার (২৮), মমতাজ বেগমসহ (৪৭) ছয়জন আহত হন।

গ্রেপ্তার আতঙ্কে আহত অনেকে গোপনে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ ছাড়া মিছিলকারীদের হামলায় থানার ডিউটি অফিসার এএসআই আ. হালিম, সিপাহি লিমন মিয়া, ফরহাদ হোসেন, মনির হোসেন, আলামিন হোসেন ও মেহেদী হাসান আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় ডিউটি অফিসারকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রিয়াজের বোন শারমিন আক্তার ও স্থানীয় মমতাজ বেগমকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য বরিশাল থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

রিয়াজ ফকিরের মা নাছরিন বেগম জানান, ‘আমার ছেলেকে রাস্তা থেকে বিনা অপরাধে পুলিশ ধরে নিয়ে মারধর করেছে। সে গুরুতর আহত অবস্থায় বরিশাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।’

আগৈলঝাড়া থানার ওসি মোহাম্মাদ মাসুদ খান বলেন, চুরির মামলায় রিয়াজ ফকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সে জেলখানায় বসে বুধবার রাতে নিজেই মাথায় আঘাত করে অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাকে বরিশাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ কারণে পরিকল্পিতভাবে রিয়াজের আত্মীয়স্বজনসহ শতাধিক লোক মিছিল নিয়ে থানায় হামলা করে পুলিশ সদস্যদের মারধর করে আহত করে। থানায় হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।