২০২১ সালের ৪ আগস্ট; ঢাকাই সিনেমার শীর্ষ নায়িকা পরীমণির বনানীর বাসায় আচমকাই হানা দেয় র্যাব। দীর্ঘ রুদ্ধশ্বাস অভিযানের পর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর তিন দফার রিম্যান্ড ও টানা ২৮ দিনের কারাবাসÑ সব মিলিয়ে পরীমণির জীবন ও ক্যারিয়ারে নেমে এসেছিল এক ঘোর অন্ধকার। দীর্ঘ চার বছর পর, সম্প্রতি সেই ঘটনাকে ‘সম্পূর্ণ বেআইনি ও বিশেষ মহলের স্বার্থসংশ্লিষ্ট নাটক’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে নিজের মনের জমানো বেদনা ও একগুচ্ছ প্রশ্ন রাষ্ট্রের সামনে ছুড়ে দিয়েছেন এই অভিনেত্রী।
সম্প্রতি একটি অনলাইন টকশোতে র্যাবের সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল খাইরুল ইসলাম স্বীকার করেন যে, তৎকালীন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে পরীমণিকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এই সত্যটি সামনে আসার পর পরীমণি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খাইরুল ইসলামকে ধন্যবাদ জানিয়ে লিখেছেনÑ দেরিতে হলেও সত্যটি প্রকাশের ফলে দেশের মানুষ আজ আসল ঘটনা জানতে পেরেছে। তিনি বিশ্বাস করেন, সত্যকে চিরদিন চাপা রাখা যায় না।
কারাগারের অন্ধকার দিনগুলো তার মানসিক ও সামাজিক জীবনকে কতটা বিপর্যস্ত করেছিল, তা স্মরণ করে পরীমণি সরাসরি রাষ্ট্রের কাছে কিছু প্রশ্ন রেখেছেন। এর পরেই প্রশ্ন নায়িকার, ‘এবার হয়তো রাষ্ট্রের সেই সাজানো মামলা থেকে আদালত হয়তো আমাকে অব্যাহতি দেবেন। কিন্তু আমার সেই দিনগুলো কি ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব? যে জীবন, যে সম্মান, যে মানসিক শান্তি আমি হারিয়েছি, তা কি আর কখনো ফিরে পাব? মানুষের মনে আমাকে নিয়ে যে অসত্য, যে বিভ্রান্তিকর ও বিতর্কিত ধারণা তৈরি হয়েছে, রাষ্ট্র কি তার দায় নেবে?’
তিনি এ-ও জানতে চেয়েছেন, রাষ্ট্রের কাছে কি তার প্রশ্নের সদুত্তর আছে? নিজের অবস্থান জানাতে গিয়ে অতীত ফিওে দেখেছেন পরীমণি। তাকে না জানিয়ে তার বাড়িতে দীর্ঘ প্রশাসনিক তল্লাশি। তার পর গ্রেপ্তার। তিনি বলেন, ‘পরবর্তী সময়ে মিথ্যা ও বানানো মামলায় আমাকে টানা ২৮ দিন সংশোধনাগারে রাখা হয়েছিল। সেই সময়ের অভিজ্ঞতা আমার জীবনকে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত ও বিপর্যস্ত করেছে, তা আল্লাহ আর আমি ছাড়া পৃথিবীর আর কারো পক্ষে পুরোপুরি বোঝা সম্ভব নয়।’ তার দাবি, ‘যেভাবে আমাকে অপদস্থ করা হয়েছে, আমার সম্মান, নৈতিকতা এবং চরিত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বেদনাদায়ক অধ্যায় হয়ে থাকবে।’
পরীমণির মতে, তিনি জানতেন, দেরিতে হলেও সত্য প্রকাশ্যে আসবে। তাই তিনি ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করেছেন। একই সঙ্গে অতীত আঁকড়ে বেঁচে নেই তিনি। নামের মতো বাস্তবেও তিনি ডানা মেলে মুক্ত জীবনযাপন করতে ভালোবাসেন। তাই তার আশ্বাস, কারো প্রতি প্রতিশোধ নেবেন না। সত্য ও ন্যায়বিচারের পক্ষে থাকতে চান নায়িকা।
পরীর কথায়, ‘আমি কাউকে ছোট করতে চাই না। কাউকে অপমানও করতে চাই না। আমি শুধু চাই, ভবিষ্যতে আমার মতো আর কোনো নির্দোষ মানুষ যেন এ ধরনের অন্যায়ের শিকার না হন।’
অতীতের এই গভীর ক্ষতকে আঁকড়ে ধরে বাঁচতে চান না পরীমণি। তিনি সমস্ত গ্লানি পেছনে ফেলে মুক্ত আকাশের পরীর মতো করেই ডানা মেলে উড়তে চান। কঠিন সময়ে পাশে থাকা পরিবার, সহকর্মী, সাংবাদিক ও ভক্তদেও প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, তার কাজ, একমাত্র সন্তান এবং দর্শকদের ভালোবাসাকে পুঁজি করে সুন্দর ভবিষ্যতে এগিয়ে যাওয়াই এখন তার লক্ষ্য।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন